
আবারও আইনি অস্বস্তিতে পশ্জিমবঙ্গের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত একটি সভা থেকে ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে হেয়ার স্ট্রিট থানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন নেতাজি নগর থানায় তুষার কান্তি দাস নামের এক ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ জমা দেন। পরে ৭ জুন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এলাকার অধীনস্থ হেয়ার স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়, যেহেতু ঘটনাস্থল এসপ্ল্যানেড ও হেয়ার স্ট্রিট থানার আওতায় পড়ে।-খবর তোলপাড়।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে গত ৯ মার্চ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর করা কিছু মন্তব্য রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি তখন এক সেকেন্ড লাগবে! একটা কমিউনিটি (মুসলিম) যখন জোট বাঁধে না, তখন (হিন্দুদের) ঘিরে ফেললে ১ সেকেন্ডে দেবে একদম ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।”
এই বক্তব্যকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা ও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন।
অভিযোগকারীর দাবি, এই ধরনের বক্তব্য মানুষকে অপরাধমূলক কাজে উসকানি দিতে পারে এবং এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ (BNS)-এর অধীনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৬(১) ধারা, যা বিভিন্ন গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি বা সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা সম্পর্কিত। এছাড়া ৩৫১(২) ধারা, অর্থাৎ অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন বা উসকানি দেওয়া, এবং ৩৫২ ধারা, যা শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান বা প্ররোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ধারার সবকটিই জামিন অযোগ্য।
হেয়ার স্ট্রিট থানা ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের একটি সভা থেকে নাম না করে বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বক্তব্য নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং শিলিগুড়িসহ রাজ্যের একাধিক থানায় তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। ফলে একের পর এক ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় আসছে তার বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ ও উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিষয়টি বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র করতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
প্রধান সম্পাদক
দিপালী রানী রায়
সম্পাদক ও প্রকাশক প্রহলাদ মন্ডল সৈকত;
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ফার্মগেট ঢাকা(অফিস) ও কলেজ রোড রাজারহাট থেকে প্রকাশিত । যোগাযোগ: বার্তা বিভাগ- ০১৭৩৭-১৬৯৪৬৩, বিজ্ঞাপন ও সম্পাদকীয় বিভাগ-০১৩০৩০৩৩৩৭১, ই-মেইল- নিউজ: dailytolpernews@gmail.com বিজ্ঞাপন: prohalad@gmail.com
Copyright © 2026 dailytolper. All rights reserved.