
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সারা দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর হয়েছে। আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধির অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন।-খবর তোলপাড়।
রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ফলে হাইকোর্টের আগের রায় আর বহাল থাকছে না।
তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় ওপরে রাখা হবে এবং অধিগ্রহণ করা বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষকদের অবস্থান থাকবে নিচে। আপিল বিভাগের রায়ে এ বিষয়টি চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, এই আইনি জটিলতার কারণে সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন খালি ছিল। কোথাও কোথাও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালানো হলেও সরকার নিয়মিতভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা বদলি করতে পারছিল না।
তিনি বলেন, আপিল বিভাগের এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হবে এবং সরকার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে। এতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, ২০১৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এর আগে জাতীয়করণের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচন করে সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করা হয় এবং পরে সেগুলো জাতীয়করণ করা হয়।
অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত ৯(১) বিধির অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট করেন।
প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ওই বিধির অংশবিশেষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে রায় দেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করলে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করেন এবং হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
এরপর ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল দায়ের করে। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরাও আপিল বিভাগে আবেদন করেন। সব পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক, আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ ও অজিত শীল।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার।
প্রধান সম্পাদক
দিপালী রানী রায়
সম্পাদক ও প্রকাশক প্রহলাদ মন্ডল সৈকত;
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ফার্মগেট ঢাকা(অফিস) ও কলেজ রোড রাজারহাট থেকে প্রকাশিত । যোগাযোগ: বার্তা বিভাগ- ০১৭৩৭-১৬৯৪৬৩, বিজ্ঞাপন ও সম্পাদকীয় বিভাগ-০১৩০৩০৩৩৩৭১, ই-মেইল- নিউজ: dailytolpernews@gmail.com বিজ্ঞাপন: prohalad@gmail.com
Copyright © 2026 dailytolper. All rights reserved.