পিএম সৈকত:
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আলোচিত জাহিদুল ইসলাম জিন্নাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও এনসিপি নেতা লিয়াকত হোসেন লিমনকে (২৩) গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩। গত ৩০ জুলাই অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে শ্রীপুর থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে সেখান থেকে রাজারহাট থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজারহাট থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃতকে কুড়িগ্রাম আদালতে প্রেরণ করেন।
লিয়াকত হোসেন লিমন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্র শক্তি’র মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।
একই অভিযানে পৃথক দুটি মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- অপহরণ মামলার আসামি কিশামত নাখেন্দা গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে রাবিকুল ইসলাম (১৯) এবং চুরি মামলার আসামি রাজশাহীর মোহনপুর থানার চৌরাঙ্গপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আকাশ মিয়া (২২)। গ্রেপ্তারের পর তাদেরকেও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজারহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান জানান, এ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ২৮ জন আসামির মধ্যে প্রধান আসামিসহ ৭ নারীসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তা এবং র্যাব-১৩-এর সহযোগিতায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
নিহতের একমাত্র ছেলে সাকিব (১৮) রংপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি দ্রুত সব আসামির গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও সরকারি রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে জাহিদুল ইসলাম জিন্নাত ও জয়নাল হোসেনের মধ্যে সরকারি রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ১৪ জুলাই জিন্নাত বিরোধপূর্ণ সড়কের পাশে নিজ জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে জয়নাল হোসেনের ছেলে লিয়াকত হোসেন লিমন ধারালো বল্লম দিয়ে তার বুকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার একদিন পর নিহতের বড় ভাই জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে ২৮ জনকে আসামি করে রাজারহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন- জয়নাল হক (৪৪), রওশন (৪২), গরিবুল্লাহ (৪৫), রেজাউল করিম (২২), রিয়াদ আলী (১৯), গওসুল (৭০), নাইমুল ইসলাম নয়ন (১৮), জিন্না বেগম (৬০), নুরবানু (৩৮), লিপি বেগম (৩৭), হেলেনা বেগম (৩৭), আনোয়ারা বেগম (২৮), আশফিকা আক্তার (১৯) ও আশা মনি (২০)।
ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন-https://www.facebook.com/reel/1729010888363391