নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে জাবির প্রথম দিনের ভর্তি পরীক্ষা
সংবাদদাতা, জাবি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিনে ‘ডি’ ইউনিটের (জীববিজ্ঞান অনুষদ) শুধু মেয়েদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রথম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল গেইট থেকে সাভারের থানা স্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট, খাবারের উচ্চমূল্য ও চুরির মতো ঘটনা ঘটায় ভোগান্তিতে পড়েন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এতে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে।
রবিবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯ টায় ১ম শিফটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের পরীক্ষা শুরু হয় এবং বিকাল ৩ টা ১৫ মিনিটে ৫ম শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
ইউনিটভিত্তিক আবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটে। এই অনুষদে ৩১০ আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৮৬ হাজার ৭৮৮টি। সে হিসেবে প্রতিটি আসনের জন্য ২৮০ জন ভর্তিচ্ছু প্রতিযোগিতা করছেন।
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের পরে কেন্দ্রে আসছেন। আবার অনেকে তাড়াহুরো করে কক্ষে প্রবেশ করছেন পরীক্ষার একদম শেষ সময়ে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। আবার কেউ কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতেই পারেননি।
এ বিষয়ে সমাধান করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ কী জানতে চাইতে প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
সকাল সাড়ে ১১টায় ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘জীববিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার শুরু হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাইনি। সকলের সহযোগিতায় সুন্দরভাবে ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবে বলে আশা করি।’
এদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের শিট, বইয়ের কিংবা ভ্রাম্যমান দোকান বসতে দেওয়া হয়নি। খাবারের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেইট) সংলগ্ন মামা-ভাগিনা হোটেল মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেইটের সামনে ওভার ব্রিজ থেকে চোর সিন্ডিকেটের ২ সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন শিক্ষার্থীরা। আটক হওয়ার পর একাধিক ভুক্তোভোগী তাদের মোবাইল ফোন হারানোর অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘আমি সমাজবিজ্ঞানের দিকে যাচ্ছিলাম। আমার ব্যাগের ভিতর একটা মোবাইল ছিল। সেখান থেকে মোবাইলটি নিয়ে নেওয়া হয়। আমার ধারণা এই চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরাই এই কাজ করেছে।’
আটকে অংশ নেওয়া তৌহিদ খান বলেন, আমি বই দিতে ডেইরি গেটের সামনে লাইব্রেরিতে এসেছিলাম। পরে ওভারব্রিজ পার হওয়ার সময় দখতে পাই একজন লোক মোবাইল ফোন পকেট থেকে বের করে আরেকজন লোকের কাছে দিয়ে দিচ্ছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তাদেরকে হাতেনাতে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে আসা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর এ কে এম রাশিদুল আলমের সহায়তায় আটককৃতদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এছাড়া এ ঘটনার পর প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা আরো জোরদার করার ব্যবস্থা করেন।
এদিন ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মদদ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রশাসনের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর মোস্তফা ফিরোজ ও ট্রেজারার প্রফেসর রাশেদা আখতারকে। তারা নিজ নিজ অনুষদে অবস্থান করছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে ক্যাম্পাস ছাড়া হওয়ার পর এবারই প্রথম তাদেরকে দেখা যায়।
এ বিষয়ে ভিসি প্রফেসর মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘জুলাই হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। চূড়ান্তভাবে প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জায়গা থেকে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। তবে আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে ও চলমান ভর্তি পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে তাদের কোথায় যাওয়া উচিত আর কোথায় যাওয়া অনুচিত এই জ্ঞানটা থাকা দরকার।’
উল্লেখ্য, আগামীকাল (১০ ফেব্রুয়ারি) ৫ শিফটের পরীক্ষায় প্রথম চার শিফটে ‘ডি’ ইউনিটের ছেলেদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী এক শিফটে (৫ম শিফট) ইন্সটিটিউট অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।









Chief Editor-Dipali Rani Roy