সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নির্বাচন ডাকাতি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে জানালো বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা পিরোজপুর পুলিশের অভিযানে ২২টি মোবাইল ও বিকাশ প্রতারণার ১৮ হাজার টাকা উদ্ধার ফেনীর দাগনভূঞায় অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার নাগেশ্বরীতে ইউনিসেফের অর্থায়নে স্থানীয় ব্যবসায়িকদের সাথে সংবেদনশীলতা সভা অনুষ্ঠিত নড়াইলে অভিযান চলাকালে নদীতে অবৈধ জাল জব্দ করে বিনষ্ট রাজারহাটে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ায় জিএমবি ইটভাটার মালিকের ৪লাখ টাকা জরিমানা আদায় রংপুর রিজিয়নে সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবির সাফল্য সাড়ে ৭ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য আটক কুড়িগ্রামে তিন সন্তানের জননীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক রৌমারী সীমান্তে গুলির পর এক যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ ‘লাগামহীন’ আগ্নেয়াস্ত্র, কথায় কথায় গুলি, আতঙ্কে নেতা-কর্মী
শোকার্ত:

পাবনায় জামায়াতের অফিসে হামলার অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে

প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

সংবাদদাতা, পাবনা:

আধিপত্য বিস্তারের জেরে পাবনা সদর উপজেলায় জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় একটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে জামায়াত সমর্থক কয়েকজনের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাইদ ও জাহিদুলের ইসলামের ফেস্টুন।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত দশটা নাগাদ সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ী এলাকার তিন নাম্বার ওয়ার্ড জামায়াতের কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাতজনকে অভিযুক্ত করে পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযুক্তরা হলেন, মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, পাবনা সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবির হোসেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি উজ্জ্বল হোসেনসহ সাতজন। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও অনেকে রয়েছেন এই তালিকায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত দশটার দিকে মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ জন অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী পিস্তল, বন্দুক, রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ি এলাকায় স্থানীয় জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে।

এ সময় হামলাকারীরা একটি মুদিখানা দোকান ভাঙচুর ও একটি অটোরিকশার গ্যারেজ ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর তারা স্থানীয় বাসিন্দা পাবনা পৌর জামায়াতের ইঞ্জিনিয়ার ফোরামের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ করিমসহ বেশ কয়েকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ আবু সাঈদ ও জাহিদুল ইসলামের ফেস্টুন পুড়িয়ে দেওয়া হয় হামলাকারীরা।

ভুক্তভোগী জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ করিমের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি নেতা ইয়াকুব আলী, মাহমুদুল হাসান, আবির হোসেনসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা দখলদারিত্ব, আধিপত্য বিস্তার, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের অফিসে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গুলিবর্ষণ করেছে। সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী বলেন, এ ঘটনায় আমি মোটেও জড়িত নই। যখন এ ঘটনা ঘটে, তখন থানার ওসি সাহেবের ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। এর বেশি কিছু নয়।

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি ঝামেলা চলে আসছিল কয়েকদিন ধরে। শনিবার রাতে দোকান ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর