সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
এনসিপিসহ ৩টি দলের নতুন নির্বাচনী জোট ঘোষণা ৫ বছরের প্রেমের ইতি, বিয়ে হচ্ছে না স্মৃতি–পলাশের ঢাকায় আসবে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে গুণগত শিক্ষার বিকল্প নাই জানালো রংপুরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামে হাজীদের নিয়ে গঠিত ‘যিয়ারাতুল হারামাইন’ সংগঠনের প্রথম বছর পূর্তি পালিত নির্বাচন যত বিলম্ব হবে সংকট তত বাড়বে বললো কুড়িগ্রামে মাহমুদুর রহমান মান্না কুড়িগ্রামে স্টেকহোল্ডার কর্মশালা অনুষ্ঠিত এমপিও স্থগিত, স্বীকৃতি বাতিল হচ্ছে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদেশ থেকে পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ২ লাখ ২৩ হাজার প্রবাসী ১১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকার জনস্বাস্থ্য প্রকল্প ঝুলছে
বিজ্ঞাপন দিন- নিজের এবং প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন:
আগামী ১০ ডিসেম্বর(বুধবার) পাক্ষিক ‘আলোকিত রাজারহাট’ এর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হবে। আপনি/আপনার প্রতিষ্ঠানের সারাদেশব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। যোগাযোগ করুন পাক্ষিক ‘আলেকিত রাজারহাট’ ট্রাফিক মোড়, রাজারহাট অথবা ০১৭১৯০-২৬৭০০(প্রহলাদ মন্ডল সৈকত), ০১৭৩৭-১৬৯৪৬৩(দিপালী রানী রায়, ০১৩৪১-৯২৬৮২১(মোস্তফা কামাল)

গজলডোবা ফারাক্কার প্রভাবে থমকে গেল উত্তরের ২০০ নদীর প্রবাহ

প্রকাশের সময়: শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫

বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে ভারত পদ্মা নদীতে ফারাক্কা ও তিস্তায় গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করেছে। তার প্রভাবে বিগত পাঁচ দশকে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২০০টির মতো নদনদী প্রকৃতিতে অতীত হয়ে গেছে। আর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর। জীববৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে। তিস্তা, ঘাঘট, ধরলা, পদ্মাসহ অন্যান্য নদী এখন হেঁটে পার হওয়া যায়।-খবর তোলপাড়।

নদীবিষয়ক গবেষক ও লেখকসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা অববাহিকা অর্থাৎ রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় ৫০টির বেশি নদীর প্রবাহ থেমে গেছে তিস্তায় গজলডোবা বাঁধের কারণে। দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার ৪০টির বেশি নদীর প্রবাহ নেই। অর্ধশতাব্দী আগে এসব নদীতে ছিল পানির প্রবাহ ও প্রাণের স্পন্দন। বর্তমানে অনেক স্থানে এসব নদীর কোনো অস্তিত্বই দেখা যায় না। এ ছাড়া পদ্মা অববাহিকায়ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট প্রায় ১০০টি নদী কালের অতলে হারিয়ে গেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের অবস্থা আরও করুণ। কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকায় শুকনো মৌসুমে এ নদী হেঁটে পার হওয়া যায়।

শুকনো মৌসুমে তিস্তাতে থাকে হাঁটুপানি। ডালিয়া থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জেগে ওঠে বিশাল চর। বগুড়ার প্রমত্তা করতোয়া ক্ষীণ খালের মতো হয়ে গেছে। তেমনি গাইবান্ধার ঘাঘট, কুড়িগ্রমের ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র। ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মা শুকিয়ে অনেক স্থানে খালে পরিণত হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলে প্রকৃত রূপ থেকে প্রবাহ থমকে যাওয়া নদীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ধরলা, জলঢাকা, দুধকুমার, তিস্তা, স্বতী, ঘাঘট, নীলকুমার, বাঙ্গালী, বড়াই, মানাস, কুমলাই, লাতারা, ধুম, বুড়িঘোড়া, সোনাভরা, হলহলিয়া, লোহিত্য, ঘরঘরিয়া, ধরণী, নলেয়া, জিঞ্জিরাম, ফুলকুমার, কাটাখালী, শালমারা, রায়ঢাক, খারুভাজ, যমুনেশ্বরী, চিকলী, মরা করতোয়া, ইছামতী, আলাই কুমার, মরাতি, পাগলা, চন্দনা, বারাহি, হাব, নবগঙ্গা, সর্বমঙ্গলা, চিনারকুক, ভাঙ্গা, খলিসা, গদাই, প্রাচীন ইছামতী, কমলা, নারদ, সারিয়াজান, সিঙ্গীমারী ইত্যাদি। সূত্রমতে, একসময় শাখা নদী হিসেবে ওইসব নদী দাপটের সঙ্গে এ অঞ্চলের প্রকৃতিকে শাসন করত। এসবের অনেক স্থানে নগরায়ণ হয়েছে। পারাপারের জন্য ছিল অসংখ্য খেয়াঘাট। কিন্তু আজকাল আর এসব দৃশ্য চোখে পড়ে না। ফারাক্কা-গজলডোবার বাঁধে নদীগুলো মরে গেছে।

নদীবিষয়ক গবেষক ও রিভারাইন পিপল কমিটির পরিচালক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তুহিদ ওয়াদুদ জানান, ফারাক্কা ও গজলডোবা বাঁধের কারণে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-পদ্মাসহ প্রায় ২০০টির মতো নদী অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছে। তিস্তা এবং এর শাখা নদীগুলো এ অঞ্চলের মানুষের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পদ্মায় পানি না থাকায় মেঘনা নদীর পানি প্রবাহ কমে গেছে।

নদীবিষয়ক লেখক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, হারিয়ে যাওয়া নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারকে দ্রুততম সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে এ অঞ্চলের মরুকরণ ঠেকানো যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর