পীরগঞ্জে নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রার শূন্য, বিবাহ নিবন্ধনে অভিভাবকরা প্রতারিত
সংবাদদাতা, পীরগঞ্জ(ঠাকুরগাঁও):
পীরগঞ্জ উপজেলার ১১নং বৈরচুনা ইউনিয়নে দীর্ঘ দিন ধরে নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য রয়েছে। বিবাহ নিবন্ধনে বর কনের অভিভাবকরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দীন সন্তোষজনক কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অশান্তি বিরাজ করছে। জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রার শামসুল হক প্রায় ৩ বছর আগে তার পদ থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেন।
ফলে নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রারের পদটি শূন্য হয়। পীরগঞ্জ পৌরসভার ৫ ও ৮নং ওয়ার্ডের নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্টার রাজিউর রহমান রাজু কে দুই দফা মোট ৮ মাসের জন্যে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্যে পত্র দেন জেলা রেজিস্ট্রার। তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার এসব বিষয় অবগত হয়েও তিনি কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ওই ইউনিয়নের অবৈধ ভাবে অনেকেই নিকাহ্ ও তালাক নিবন্ধন করছেন। দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার নারাবাড়ি, ওই জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাতইল ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রারগণ বেআইনী ও অবৈধ ভাবে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নে এসে বর কনের বিবাহ নিবন্ধন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া পীরগঞ্জ উপজেলার ২ জন নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রার এলাকায় দালাল নিযুক্ত করে অবৈধ ভাবে বর কনের বিয়ের নিবন্ধন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিয়ের পর অভিভাবকরা নিকাহ নিবন্ধনের নকল/কাবিননামা নিতে গিয়ে সীমাহিন হয়রানি হওয়া সহ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। বিবাহের পর বর কনের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ দেখা দিলে কনে পক্ষ ওই সব নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রারদের কাছে গিয়ে হয়রানি হয়েও বিয়ের কাবিননামা সংগ্রহ করতে না পারায় তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না বলে ওই ইউনিয়নের ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার এ প্রতিনিধিকে জানায়। এছাড়া ওই ইউনিয়নের বৈধ নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রার না থাকায় যে যার মত করে সুযোগ বুঝে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বাল্য বিবাহ নিবন্ধন করছেন। ফলে ওই ইউনিয়নে দিন দিন বাল্য বিবাহ বাড়ছে।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দীন সোমবার এ প্রতিনিধিকে জানায়, অফিসে গিয়ে ফাইল পত্র দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি এলাকার সচেতন মহল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।









Chief Editor-Dipali Rani Roy