কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভিজিএফ চাল আত্মসাৎ ! সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি
এম এইচ শাহীন, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) :
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরনী বাড়ী ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৫ উপলক্ষে গরীব ও দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন তদন্ত কমিটি ।
অভিযোগে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এরশাদুল হক,ভুয়া তালিকা প্রণয়ন করে অন্তত ২ হাজার জনের নামে চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন, যার পরিমাণ প্রায় ২০ মে: টন।এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান শাহীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভিজিএফ এর চাল চেয়ারম্যানের পেটে, ভিজিএফ এর চাল কালোবাজারে বিক্রি, ভিজিএফ এর চাল আত্মসাৎ শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ ও চেয়ারম্যান চাল চুরি করে কালো বাজারে বিক্রির ভিডিও চিত্র প্রচার হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা উপজেলা শিক্ষা অফিসার নার্গিস ফাতিমা তোকদারকে প্রধান করে, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল কাদের ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশল নিত্যানন্দ বর্মনসহ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্ত কমিটি গতকাল রবিবার সরেজমিন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব , দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার ও ইউপি সদস্যদের নিকট থেকে আলাদা আলাদা লেখিত বক্তব্য নেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা নিত্যানন্দ বর্মন জানান , একজনের নাম একাধিকবার ব্যবহার,১ থেকে ১৩ ক্রমিকে ব্যবহৃত এন আই ডি নং ৬ হাজার ৬শ ৫০জন সুবিধা ভোগির নামে ব্যবহার হয়েছে ,মৃত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা এবং এক ওয়ার্ডের লোকজনকে অন্য ওয়ার্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো নানা অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। এমনকি প্রায়োরিটি/অগ্রাধিকার তালিকার ক্রমিক নাম্বার ৪২, মজাহার পিতার নাম লেখা ছিলো যাদুচন্দ্র, মাষ্টার রোলে লেখেছে বক্কর আলী, ক্রমিক নং ৪৪, সাহেব আলী, পিতা ছিলো খোকা চন্দ্র, মাষ্টার রোলে লেখেছে জামাল উদ্দিন ,ক্রমিক নং ৪৬ , ইউনুস পিতা অনিল চন্দ্র, মাষ্টার রোলে পিতার নাম লেখেছে তোফাজ্জল,ক্রমিক নং ৫৪, বিলকিস বেগম, পিতা /স্বামী যাদুচন্দ্র, মাষ্টার রোলে লেখেছে বয়তাল উদ্দিন,ক্রমিক নং ৫৮, কপিলা, পিতা/স্বামী, অনিল চন্দ্র, মাষ্টার রোলে লেখেছে কপিল উদ্দিন,ক্রমিক নং ৬৬, হাওয়ানু, পিতা/স্বামী লিখেছিল যাদু চন্দ্র, পরিবর্তন করে লেখেছে আর:করিম,ক্রমিক নং ৬৮ ছকিনা, স্বামী লিখেছে খোকা চন্দ্র, পরিবর্তন করে লেখেছে ছফার আলী,ক্রমিক নং ৭০, সহিতন নেছা, স্বামী লেখেছিল অনিল চন্দ্র, পরিবর্তন করে লেখেছে শাহাজালাল,ক্রমিক নং ৭৬, চিনি বালা, স্বামী মকবুল হোসেন, পরিবর্তন করে লেখেছে শচীন চন্দ্র ,ক্রমিক নং ৭৮, আসমা বেগম, স্বামী লেখাছিল যাদু চন্দ্র, পরিবর্তন করে লেখেছে মৃত আছব আলী,ক্রমিক নং ৮০ রেজেকা বেগম, পিতা/স্বামী লেখাছিল খোকা চন্দ্র, পরিবর্তন করে লেখেছে আ: রাজ্জাক ক্রমিক ৮২, রাবেয়া বেগম পিতা / স্বামী অনিল চন্দ্র , পরিবর্তন করে লেখেছে আ: রহিম ক্রমিক নং ৮৪,মালা রানী , স্বামী লেখাছিল নছর উদ্দিন , পরিবর্তন করে লেখেছে মংলা চন্দ্র , ক্রমিক নং ৯০, সাহিদা পিতা/স্বামী জাদুচন্দ্র , পরিবর্তন করে লেখেছে শাহাজালাল,ক্রমিক নং ৯১ গীতা রানী পিতা/ স্বামী শামসুল হক , পরিবর্তন করে লেখেছে গ্রীতন্দ্রনাধ, ক্রমিক নং ৯২,আহিনা বেগম পিতা/ স্বামী লেখাছিল খোকা চন্দ্র, পরিবর্তন করে লেখেছে আকবর আলী, মাষ্টার রোলে এ রকম অসংখ্য নাম পরিবর্তন করলেও এখনো ক্রমিক নং ১১৮, নুরজাহান বেগম পিতা/ স্বামী অলিল চন্দ্র, উল্লেখ আছে। যা আইন পরিপন্থী।তদন্তে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় উক্ত পরিষদের চেয়ারম্যান দরিদ্র ও দু:স্হ মানুষজনের জন্য বরাদ্দ কৃত চাল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে না দিয়ে কোন অনুমতি ছাড়াই মধুপুর সরকার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিতরন করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খন্দকার ফিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চাল বিতরণ করার জন্য অফিসিয়ালি কোন অনুমতি নেননি চেয়ারম্যান,এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগে আলোকে তদন্ত করেছে তদন্তে সত্যতাও পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









Chief Editor-Dipali Rani Roy