
কামরুল হাসান লিটন,ফেনী:
সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেট ছাত্রদের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে চুরি দিয়ে আঘাত করে ১০ম শ্রেণীর ছাত্র সেফায়েত ইসলাম মাহী (১৫) মারাত্মকভাবে জখম করে। মাহীকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হলে তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় পরবর্তীতে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সে চট্রগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার বিকেলে ফেনীর আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিন ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেট স্কুল থেকে একশ’ গজ পূর্বে রাস্তার মাথায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে,এসএসসি পরীক্ষার্থী জাহিদ আহত মাহির চাচাতো ভাই পরিচয় দিয়ে বলতে ঘটনার সুত্রপাত ঘটে জানা গেছে। মারুফ ও সাইফ দ্রুত মটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। উক্ত স্কুলে দীর্ঘদিন যাবত সিনিয়র জুনিয়র তোমকা তুলে কিছু শিক্ষার্থীদের প্রায় কথাকাটাকাটি হয়। এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ধরণের ঘটনা ইতিমধ্যে কয়েকবার হলেও কোন সুরাহা না হওয়ায় এ সকল শিক্ষার্থীরা কিশোর গ্যাং এ পরিণত হয়েছে। ফলে এলাকার কোন মুরব্বী শ্রেণীর প্রতি মান্যতা পর্যন্ত উঠে গেছে। ফলে এ ব্যাপারে কেহ কোন কথা বলেতে চায় না।
জানা যায়,এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে ফুলগাজী থানায় হত্যার চেষ্টা মামলা দায়ের করেন তার বড় ভাই আরাফাত ইসলাম শাহেদ। মামলা বিবরনীতে বলা হয়েছে, তার ছোট ভাই মাহি স্কুল ছুটির পর বাড়ীতে যাওয়ার পথে একই স্কুলে ৯ম শ্রেণীর দুই ছাত্র তার উপর হামলা করে। হামলার সময় তাদের হাতে থাকা চুরি দিয়ে আমার ছোট ভাইয়ে গলায় আঘাত করলে রক্তাক্ত অবস্থায় সে রাস্তায় পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আমার ভাইকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিলে অবস্থা খারাপ হওয়ায় ডাক্তারের পরামর্শে চট্রগ্রাম হাসপতালে স্থানান্তর করা হয়। তারা আমার ভাইকে হত্যার উদেশ্যে এ হামলা চালায়। উক্ত মামলায় দু’জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে। নাম উল্লেখকারী আসামীরা হলেন, উপজেলার তারাকুছা গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে মারুফ হোসেন(১৫) ও উত্তর ধর্মপুর গ্রামের আবদুল মুনাফের ছেলে মোঃ সাইফ উদ্দিন(১৫)। উভয়ে উক্ত স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র। এরা সবাই কিশোর গ্যাং এর সদস্য বলে এলাকাবাসী জানান।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান, আহত মাহি,সাইফ ও মারুফ ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেট এর ছাত্র। ঘটনার দিন বিকেলে আমি উপজেলা সদরে ছিলাম। বিষয়টি পরে জেনেছি।
ফুলগাজী থানার ওসি লুৎফর রহমান, মামলার তদন্ত চলছে। আসামীদের গ্রেফতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক- দিপালী রানী রায়
খামারবাড়ী, ফার্মগেট ঢাকা-১২১৫ ও ট্রাফিক মোড়, রাজারহাট-৫৬১০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল - ০১৭৭৩৩৭৪৩৬২, ০১৩০৩০৩৩৩৭১, নিউজ ইমেইল- dailytolpernews@gmail.com, বিজ্ঞাপন- prohaladsaikot@gmail.com