রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

স্ত্রীর সঙ্গে টানাপোড়েনেই আত্মহত্যা, দাবি পলাশের পরিবারের

প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৯ মে, ২০২৫


সংবাদদাতা,গোপালগঞ্জ:

র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (এএসপি) পলাশ সাহা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বুধবার (৭ মে) চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে র‌্যাব-৭-এর ব্যাটালিয়ন সদর দফতর থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ মে) তার মরদেহ পৌঁছায় গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামে। সেখানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

নিহত পলাশ সাহা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের মৃত বিনয় কৃষ্ণ সাহার কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন। তার আপন দুই ভাই ও ১ বোন রয়েছে।

পলাশের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং স্ত্রীর সঙ্গে টানাপোড়েনই এএসপি পলাশ সাহাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেয়।

পলাশ সাহার মা আরতি সাহা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, দুই বছর আগে ফরিদপুরের চৌধুরীপাড়ায় পলাশের বিয়ে হয়। বিয়ের ৬-৭ মাস পর থেকেই পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। প্রতিদিন কিছু না কিছু নিয়ে পলাশের স্ত্রী সুস্মিতা সাহা পরিবারে ঝামেলা করত। পলাশের সঙ্গে আমি চট্টগ্রামে থাকতাম, এটা পলাশের স্ত্রী মেনে নিতে পারত না। সে সব সময় আমাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য পলাশকে চাপ দিত। পলাশ কিছুতেই আমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে চাইত না।

তার বড় ভাই নন্দলাল সাহা জানান, বুধবার (৭ মে) সকালে সামান্য বিষয় নিয়ে আমার মা আরতি সাহা ও ভাই পলাশ সাহার গায়ে হাত তোলে পলাশের স্ত্রী সুস্মিতা সাহা। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি আমার ভাই। আর এ কারণেই আমার ভাই আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা।

নন্দলাল সাহা বলেন, ভালোবাসা এই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার ছোট ভাইয়ের। বিবাহের কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিবারে ঝগড়া সবসময় লেগে থাকত। পলাশ মাকে খুব ভালোবাসত। সে চাইত মা তাকে ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাক। কয়েক মাস হলো পলাশ র‌্যাবে যোগ দিয়ে চট্টগ্রামে গেলে সেখানেও স্ত্রী এবং মাকে নিয়ে যায়। এ নিয়ে পলাশের সঙ্গে সুস্মিতার ব্যাপক ঝগড়া হয়। আমরা বড় দুই ভাই একাধিকবার এই কলহের মীমাংসা করে দেই। দুদিন যেতে না যেতেই আবার বিবাদ শুরু হতো। মোটকথা, মাকে দেখতে পারত না সুস্মিতা।

এর আগে মৃত্যুর সময় পলাশ একটি চিরকুট রেখে যান। যেখানে লেখা ছিল, আমার মৃত্যুর জন্য মা বা বউ কেউ দায়ী নয়। আমিই দায়ী। কাউকে ভালো রাখতে পারিনি। বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের ওপর। তারা যেন মাকে ভালো রাখে। স্বর্ণ বাদে যা কিছু আছে, তা মায়ের জন্য। দিদি যেন সবকিছু কো-অর্ডিনেট করে।

উল্লেখ্য, এএসপি পলাশ সাহা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১০-১১ সেশনের ছাত্র। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পাবলিক ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন থেকে এসএসসি এবং শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকায় উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে প্রথমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। স্নাতকোত্তর শেষে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ৩৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ ক্যাডারে এএসপি হিসেবে যোগ দেন।

পলাশের মৃত্যুতে তার পরিবারে বইছে শোকের মাতম। প্রয়াত পলাশ সাহার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর