সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন:

ফেনীতে কোরবানীর বাজার: ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারীরা ঘুরে দাড়াঁনোর লড়াইয়ে ব্যস্ত

প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ জুন, ২০২৫


কামরুল হাসান লিটন, ফেনী:

পবিত্র ঈদুল আযহার বাকী আর মাত্র এক সপ্তাহ। কোরবানী উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে পশু কেনা-বেচা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে খামারী,ক্রেতা ও ব্যাপারীরা। নির্ধারিত তারিখে পশু হাট গুলিতে গরু,ছাগল,ভেড়া ও মহিষ উঠা শুরু হয়ে গেছে। কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুর্হুতে পশু পরিচর্ষা ও বাজারে আনা নেয়া চলছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারীরা ঘুরে দাড়াঁনোর লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

তবে ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কোরবানীর বাজারের পশুর দাম বেশী হওয়ায় সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে। বিক্রেতাদের দাবী বন্যার পর গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় পশুর দামের প্রভাব পড়বে কোরবানীর বাজারে। ইতিমধ্যে ফেনীর কয়েকটি বাজারে গরু চেয়ে মহিষের সংখ্যা বেশী মনে হচ্ছে। দামের ক্ষেত্রে গরুর চেয়ে মহিষের দাম বেশী। তবে ভারতীয় গরু বাজারে আসলে দামের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে খামারীরা বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ফেনীর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠিন অবস্থান থাকার পরও ভারতীয় গরু স্থানীয় বাজার গুলিতে উঠতে দেখা গেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও স্থানীয় চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশী রয়েছে। এবার জেলার চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৩৩৬টি। তারমধ্যে বানিজ্যিক ও পারিবারিকভাবে লালন-পালন করা হচ্ছে ৮৭ হাজার ২২৭টি গবাদি পশু। এরমধ্যে ৬৯ হাজার ৩৬০টি গরু, ১ হাজার ৬৬৭ টি মহিষ এবং ১৩ হাজার ২৪৩টি ছাগল ও ৩ হাজার ১৪৭টি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। গত ঈদে কোরবানী পশুর চাহিদা ছিল ৮৭ হাজার ২শতটি। তারমধ্যে বানিজ্যিক ও পারিবারিকভাবে লালন পালন করা হয় ৯০ হাজার ২৫০টি গবাদি পশু।

ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি খামার বন্ধ হয়ে যায়। তবে সচ্ছল খামারীরা ঘুরে দাড়াঁনোর চেষ্টায় বেশ কয়েকটি খামারী কোরবানীর পশু পরিচর্য়ার মাধ্যমে বাজারজাত করার চেষ্টা করেছে।

জেলার ফুলগাজী উপজেলার মদিনা এগ্রোর স্বত্ত্বাধিকারী মো: ইব্রাহীম বলেন, একমাস প্রবাসে ছিলাম। তারপর ২০২১ সালে থেকে বাণিজ্যিকভাবে গরু লালন পালন করে আসছি। চলতি বছর খামারে প্রায় দুই শতাধিক গরু রয়েছে। সময়ের সঙ্গে গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। সেই অনুযায়ী পশুর দামও কিছুটা বেশী হবে এটাই স্বাভাবিক। সীমান্ত ওপারের গরু প্রবেশ না করলে এবার খামারীরা লাভবান হবে আশা করছেন।

জেলার পশুরাম উপজেলার খামারী আবদুল মতিন বলেন, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় খামারীদেরকে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার সবকিছু অনুকূলে থাকায় কিছুটা হলেও ঘুরে দাড়াঁতে পারবো। কিন্তু প্রায় সময় কোরবানীর শেষ সময়ে সীমান্ত পার করে গরু আসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। এবার কোরবানীতে ৩০ গরু ও ২০টি ছাগল প্রস্তুত করেছি। ইতিমধ্যে বাজারে উঠানো শুরু করেছি। কিন্তু বেচা কেনা কম হওয়া বিক্রি করতে পারিনি। বাজার দর অনুকূলে থাকলে আশা করি হাটে ভালো দাম পাব। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক খামারী বলেন, জেলার পশুরাম,ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার কিছু এলাকা দিয়ে বছরজুড়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে। এমনটি অব্যাহত থাকলে কোরবানীর বাজারে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে খামারীরা। এ সময় দেশীয় সম্পদ বাচাঁনোর জন্য সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি ও স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখতে হবে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ফেনীর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত অবৈধভাবে ভারত থেকে আসা প্রায় ১৯০টি গরু আটক করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)’র অধিনায়ক লে: কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন কালেরকন্ঠকে জানান, আমাদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ গরু রয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে যেন কোন গরু না আসে সেজন্য সীমান্তে বিজিবি সচেষ্ট রয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধে সীমান্তে নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।

কোরবানীর ঈদকে কেন্দ্র পশু বিক্রির ক্ষেত্রে খামারীরা নিচ্ছেন নানা কৌশল। কেহ অনলাইনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পশু বিক্রির চেষ্টা করছেন। আবার কেহ কেহ বিক্রির সময় বিক্রেতাদের মধ্যে রাখার ঝামেলা কমানোর জন্য খামারীরা বিক্রিত পশু খামারে ঈদের আগ পর্যন্ত খামারে রেখে ঈদের পূর্বে বিক্রেতার বাড়ীতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছেন। এতে খামারীরা কিছু বাড়তি অর্থ নিচ্ছেন যা বিক্রেতাদের সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করে। এ ছাড়া ক্রেতা চাইলে খামারে এসে লাইভ ওয়েট পদ্ধতিতে গরুর দৈহিক ওজন মেপেও গরু কিনতে পারছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: মোজাম্মেল হক কালেরকন্ঠকে বলেন, ফেনীতে এবার কোরবানীর পশুর সংকট হওয়ার কোন আশংকা নেই। জেলায় অন্তত ৫ হাজার তালিকাভুক্ত খামারীর বাইরেও ব্যক্তিগতভাবে অনেকে এক বা একাধিক কোরবানীর পশু লালন পালন করে আসছেন। কোরবানী উপলক্ষ্যে পেশাদার ও মৌসুমী কসাইদেরকেও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে অবহিতকরণ কার্যক্রম করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। পশুর যোগান বেশী থাকায় ঈদ বাজার খামারী ও ক্রেতা উভয়ের অনুকূলে থাকবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক দেশের বাইরে থেকে অবৈধ উপায়ে গরু আমদানি বন্ধ রাখতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। গরু আমদানি বন্ধ করা গেলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবে বলে আশা করা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর