1. admin@dailytolper.com : admin :
নোটিশ:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকা থেকে আপনাকে স্বাগতম। তোলপাড় পত্রিকা আপনার আমার সবার। আপনার এলাকার উন্নয়নের ভূমিকা হিসেবে পত্রিকাটির মাধ্যমে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি।   এ জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা-বিভাগ-কলেজ ক্যাম্পাসসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাংবাদিক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পত্রিকাটির পর্ষদ।  আগ্রহী হলে আপনিও এক কপি রঙিন ছবিসহ নিম্ন ঠিকানায় সিভি প্রেরণ করে নিয়োমিত সংবাদ পাঠাতে পারেন।   প্রচারে প্রসার, আপনার প্রতিষ্ঠান সারা বিশ্বে প্রচারেরর জন্য বিনামূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।   বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন-০১৭১৯০২৬৭০০, prohaladsaikot@gmail.com

ফিরে দেখা—–সাংবাদিক আলতাফ হোসেন সরকার

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৬৬ টাইম ভিউ

Visits: 1

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত:
সাংবাদিক আলতাফ হোসেন সরকারের নাম কুড়িগ্রাম জেলায় অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। যে নাম শুনলে সকলে বলতো আলতাফ মানে ইত্তেফাকের আলতাফ। হ্যাঁ সে সত্যিই ইত্তেফাকের আলতাফ। ইত্তেফাক হলো একটি সারাবিশ্বের নাম করা পত্রিকা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম বললেই আগে ইত্তেফাক পত্রিকার নাম আসে। এটি পাকিস্তান আমলে প্রকাশিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র মুখপাত্র ছিল এই পত্রিকাটি। সেই পত্রিকা একজন থানা প্রতিনিধিত্ব করতো আলতাফ হোসেন সরকার। প্রত্যন্ত পল্লীর তিস্তা নদীর কোল ঘেষে আসা বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ডাংরারহাট এলাকার বাধের পাশেই তার বাড়ি। তার বাবা মৃত আব্দুর রহমান একজন কৃষক। মা গৃহিনী। স্ত্রী, ২মেয়ে, ১ছেলেসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

প্রত্যন্ত পল্লী থেকে উঠে আসা এই লোকটি ইত্তেফাক পত্রিকায় স্থান করে নিয়ে নিরলস ভাবে সমাজ উন্নয়নের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করছিল। কিন্তু কাজের ফাঁকে কখন যে মারাত্মভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সেদিকটাও খেয়াল করেন নাই।  আমি এবংআমার আরেক সহকর্মী চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় ওর শরীরের অবস্থা দেখে বললাম, তুই বাঁচতে চাস নাকি কবরে যেতে চাস। যদি বাঁচতে চাস তাহলে কালকেই রংপুরে ডাক্তার দেখাবি।

কথা শুনে ডাক্তার দেখাবে বলে আমকে আশ্বস্ত করে। কথা মতো পরদিন  সে প্রথমে রংপুর হেলথ কেয়ার ক্লিনিকের কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুকুমার রায়ের শরণাপন্ন হন। সেখানে ধরা পড়ে কিডনি ইনফেকশন। সেখান থেকে শুরু হয় তার অসুস্থতার বিষয়টি। এর আগে তিনি অসুস্থ হলে কাজ করে গেছেন অবিরাম। ওদিকটি একবারে  খেয়াল করেন নাই। মাঝে মাঝে শুধু বলতেন আমি অসুস্থ। মাত্র ৪দিনের মাথায় তিনি গুরত্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এবার তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেযাত্রাও বেঁচে যান তিনি। চিকিৎসা চলছিল। সেখান থেকে এসে বেশ ভাল ছিলেন। আবার হঠাৎ করে অসুস্থ্য হয়ে আবারও রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হলে দুইদিনের মাথায় গত সোমবার ২৫ডিসেম্বর সকাল সাড়ে এগারোটায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এ কি মর্ম কথা! আমি তখন তিস্তা নদী দিয়ে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আলিবাবা থিম পার্ক এর দিকে যাচ্ছিলাম। মাঝ পথে এ নির্ভিক সহকর্মীর মৃত্যুর খবর মোবাইল ফোনে শোনার পর হতভম্ব হয়ে পড়ি। একি হলো যে লোকটির সাথে প্রায় আড়াই যুগ কাজ করলাম। আজ সেই লোকটি আমাদের ছেড়ে চলে গেল। আর কোন দিন তার মুখের বাণী শুনতে পারবো না। চোখের জল ধরে রাখতে পারলাম না। গড়িয়ে পড়তে লাগলো। নৌকার সহযাত্রী এবং আমার সহধর্মিনী এগিয়ে এসে বিষয়টি জানতে চাইলো। আমি বললাম আমার আলতাফ ভাই আর নেই। সবাই তার জন্য আপসোস করতে লাগলো।

কিছুক্ষণ পর তার ভাতিজা আমাকে ফোনে বিষয়টি অবগত করে কিভাবে কোথায় কখন দাফন এবং জানাজা করা হবে। তা নিয়ে মোবাইলেই আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু বার বার এই সহকর্মীর মুখ স্মৃতি আমার চোখের সামনে ভেসে আসচ্ছিল। আমার শরীর খুবই দূর্বল হয়ে আসছিল। ওই নৌকায় আমার প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএ বাবলু সাহেবও ছিলেন। তিনিও মর্মাহত হয়ে পড়েছেন।

আমি বরাবরই আলতাফ হোসেন সরকারের প্রতি দূর্বল ছিলাম। কারণ তাকে মনে মনে এতোটাই ভাল বাসছিলাম যে নিজের ভাইদের কথাও ভূলে গিয়েছিলাম। এজন্য সামনা সামনি তাকে সহ্য করতে পারতাম না। সামনে আসলেই বলতাম ‘তুই তো বিশ টাকার সাংবাদিক’। বিশ টাকা পেলে তুই সব ভূলে যাস। এতো বড় একটা পত্রিকার সাংবাদিক হয়ে বিশ টাকার জন্য তির্থের কাকের মতো চেয়ে থাকিস। তুই কোন মানুষ। তুই সাংবাদিক না । একথা শুনে ও (আলতাফ) শুধু মুছকি হাসি দিতো। এর পর সে আমার কম্পিউটারে নিউজ পাঠাতে আসলে, আমি বলতাম টাকা এনেছিস। তুই তো টাকা ছাড়াই আসিস। আগের টাকা দিস নাই, আবার এসেছিস। আজ আর তোর নিউজ যাবে না। একথা শুনে মুছকি হাসি দিয়ে বলতো আরে দ্যাম এ্যালা। আজ পাঠে দ্যা। ওকে নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে হাসা হাসি হতো। এভাবে আমাদের দিন চলে যেত। লজ্জায় হয়তো দু ’একদিন কাছে আসতো না। বাইরেই থাকতো। তার পর আবার দেখা হতো মজা হতো।

আলতাফ হোসেন সরকার ছিল প্রেসক্লাব রাজারহাটের সহসভাপতি আর আমি হলাম জয়েন্ট সেক্রেটারি। ওকে ছাড়া প্রেসক্লাবে কোন মিটিং হলে সিদ্ধান্ত হীনতায় থাকতাম সবাই। আর মিটিংয়ে থাকলে খুব আনন্দ হতো।

এবার নিউজের বিষয়ে আসি। আলতাফ হোসেনের নিউজ ছিল প্রায় ফিচার ধরনের। নিউজ করতো তার এলাকার বেশী। মানে তিস্তা নদীর উপর। তিস্তা নদীর একটু ভাঙন শুরু হলেই সে দৌড় ঝাঁপ শুরু করে দিতো। এজন্য ওকে আর একটা মজা করার জন্য বলা হলো তিস্তার চরে কুমড়ারার বাম্পার ফলন হয়েছে নারে এবার। তুই তো কুমড়ার বাম্পার ফলন ছাড়া নিউজ করিস না। সে মুচকি হাসি দিতো। মুলত তার এই মুচকি হাসি দেখার জন্যই এসব মজা করা। সব মিলে আলতাফ হোসেন সরকার রাজারহাট বাজার না এলে যে সাংবাদিকরা নিরবতা পালন করতো। কিন্তু আজ আর এই হাস্যোজ্বল মানুষটি আমাদের মাঝে নেই। হারিয়ে গেল চিরতরে আমাদের মাঝ থেকে।

লাশ দেখা হলো না:
আলতাফ হোসেন সরকার মারা যাওয়ার খবর পেলাম ঠিকই কিন্তু তার লাশটি শেষ বারের মতো দেখা হয় নাই। আমি আগেই বলেছি আমি যখন আলতাফ হোসেন সরকারের মুত্যুর খবর পাই তখন শিল্প সংগীত একাডেমির প্রায় শতাধিক সহযাত্রী নিয়ে তিস্তা নদীর নৌকা যোগে রাজারহাট গাইবান্ধার মাঝপথে। আলতাফ হোসেন সরকারের লাশ দাফন সম্পন্ন হয় সোমবার ২৫ডিসেম্বর রাত সাড়ে টায় তার নিজ বাসভবনে।

এর পর থিম পার্কে গিয়ে খেয়ে দেয়ে সন্ধ্যার আগেই সকল সহযাত্রী শিল্পী গোষ্ঠীসহ আমরা অভিভাবকরা রওনা দেই। কিন্তু আটকা পড়ে যাই নদী পথের শুরুতে। নৌকা ছিল দুরে সেখান থেকে নদীর নাব্যতার কারনে বিলম্বিত হতে শুরু হয়। বাধ্য হয়ে কাঠের ব্রীজ পার হয়ে খেয়া ঘাটের নৌকায় করে পার হয়ে একটি চরে যাই। সেখানে আধাঘন্টা বালুতে হেটে নদীর এক কিনারায় উঠি সেখানে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। সবাই বিরক্ত হয়ে পড়ি।

প্রায় আড়াই ঘন্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে রিজার্ভ নৌকা আসে। নৌকায় উঠে পড়ি। রাত গভীর হতে থাকে। নদীর নাব্যতার কারনে ইতো মধ্যে ৫/৭বার নৌকা চরে আটকা পড়ে। আবার যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু রাত দশটার দিকে নৌকা এসে হঠাৎেএক চরে লেগে যায়। সেখান থেকে মাঝি আর নৌকা চালাতে পারছে না। চারিদিকে ঘন কুয়াশায় নদীর কোন কুল কিনারা চোখে পড়ে না।

মাঝিকে বুঝে সুঝে নৌকা চালাতে বললে রাজি হলে আবারও নৌকা চললে দুই তিন মিনিটের মধ্যে আবারও চরে লেগে যায়। মোবাইলের ক্যাম্পাস দিয়ে দিক নির্ণয় করলে বার বার নৌকা চরে আটকে যাচ্ছে। সেখানে রাত বারোটা বেজে যায়। দুর থেকে শুধু মাইকে ওয়াজের আওয়াজ আসছিল। আমরা সেদিকে ছুটার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু যেতে পাছিলাম না। রাত যত গভীর হয়, ঠিক ঘন কুয়াশায় নদী আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে। কিছু দেখা যায় না। আটকা পড়ে যাই নদীর চরের মাঝ দরিয়ায়। বাধ্য হয়ে মাঝি বলছিল চরে নেম যান। সবাই ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে পড়ি। মাঝি বলে এ চর থেকে হেঁটে পথ বের করে যার যার বাড়ি যেতে পারবেন। আমরা মোবাইল ফোনের ম্যাপে দেখছিলাম। নৌকাটি রাজারহাট উপজেলার শোলাগাড়ী এলাকায় রয়েছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে সহযাত্রীরা নামার সিদ্ধান্ত নেয়। আমি তাদেরকে রাগা রাগি করি নৌকা থেকে না নামার জন্য। অনেককে বুঝে বলি প্রয়োজনে নৌকায় রাত কাটাবো তবে এ চর থেকে ছেলে -মেয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। তখন  কয়েকজন পিকনিক পার্টির লোকজনের সাথে এবং বাড়ির লোকদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। প্রায় রাত এক টায় ১০/১২টি মটর সাইকেল নিয়ে শোলাগাড়ী এলাকায় গিয়ে হাট ডাক শুরু করে। আমরাও চিৎকার দিতে থাকি। এরপর নৌকার মাঝি আন্দাজ করে নৌকা তীরে ভিড়াতে সক্ষম হয়। সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 তোলপাড়
Customized BY NewsTheme