সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) :
নিয়মিত অফিস না করা, এনটিআরসির সনদপত্র ছাড়াই এবং ভূয়া মাস্টার্স সনদের মাধ্যমে নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠাকালীন কলেজের নাম পরিবর্তনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলেও বহাল তবিয়তেই রয়েছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের ড. আসাদুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবার রহমান শাহ।
জানা গেছে, (২৭ আগস্ট ২০২৪) অধ্যক্ষ মাহবুবার রহমান শাহের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সিহাব মিয়া।
অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শেষে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা পায়। এরপর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও তাকে শোকজ করেন। তবে শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তৎকালীন ইউএনও মৌসুমী হক কলেজের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাগজপত্র পাঠান।
তবু আজ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে মাগুড়া ইউনিয়নে ‘মাগুড়া কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই কলেজটি সুনামের সঙ্গে শিক্ষাদান করে আসছে। (১৯ এপ্রিল ২০২০) কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ‘মাগুড়া কলেজ’ নামে পরিচিত থাকলেও ২০২১ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘ড. আসাদুর রহমান কলেজ’ রাখা হয়।
২০০৬ সালে সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে অভিজ্ঞতা ছাড়াই এবং জাল সনদ ব্যবহার করে মাহবুবার রহমান শাহকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ ২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসি কর্তৃক নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হয়। এনটিআরসির সনদ ছাড়াই তার নিয়োগ এবং পরবর্তীতে অন্য শিক্ষকদের কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার নাম এখনো এমপিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
আরও জানা যায়, অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের পর ৬-৭ জন প্রভাষকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন তিনি। প্রার্থীরা তাতে অসম্মতি জানালে তৎকালীন গভর্নিং বডির সভাপতির সঙ্গে মিলে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন করে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০০৬ সাল থেকে অদ্যাবধি অধ্যক্ষ মাহবুবার রহমান শাহ ও গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি প্রভাব খাটিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীকে ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দেন। তিনি সরকার নির্ধারিত টিউশন ফি, অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খাতসহ নানা উৎস থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমি ইউএনও বরাবর অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তদন্তকারীরা রিপোর্ট দেন। ইউএনও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখন পর্যন্ত কিছু হয়নি।”
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মাহবুবার রহমান শাহের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে, তদন্তও হয়েছে, প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। আবার নতুন করেও তদন্ত হয়েছে।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতম সাহা বলেন, “আমি নতুন এসেছি, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রধান সম্পাদক- দিপালী রানী রায়
খামারবাড়ী, ফার্মগেট ঢাকা-১২১৫ ও ট্রাফিক মোড়, রাজারহাট-৫৬১০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল - ০১৭৭৩৩৭৪৩৬২, ০১৩০৩০৩৩৩৭১, নিউজ ইমেইল- dailytolpernews@gmail.com, বিজ্ঞাপন- prohaladsaikot@gmail.com