বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ভারত থেকে পাইপলাইনে ৫ হাজার টন ডিজেল পৌঁছালো পার্বতীপুরে সভাপতি সফি খান, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে কমিটি ঘোষণা কুড়িগ্রামে অটোরিক্সার ধাক্কায় প্রাণ গেল বাই-সাইকেল আরোহীর জ্বালানি সংকট: দু’টি পেট্রোল পাম্প বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক ও যানবাহন চালক রাজারহাটে একসঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম, মায়ের দুধের অভাব ও দারিদ্র্যে নবজাতকদের খাবার জোগাড়ই বড় চ্যালেঞ্জ ফাামিলি কার্ডের উদ্বোধন, সাড়ে ৩৭ হাজার নারী পাচ্ছে ফাামিলি কার্ড উলিপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত আইএসডিই এর উদ্যোগে কিং সালমান মানবিক সহায়তায় ৬০ হাজার পরিবারে খাবার প্যাকেট বিতরণ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বদলগাছী উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য উজ্জল বহিষ্কার উলিপুরে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ
সংসদ নির্বাচন:
https://www.banglaconverter.org/election

জুলাই বিপ্লব: সারা বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন ঢাকা

প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫

সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের ডাকা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই দিনভর অচল হয়ে পড়েছিল দেশের রেলপথ, সড়ক ও মহাসড়ক। সারা দেশের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল । কমপক্ষে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অবরোধে অংশ নেন।-খবর তোলপাড়।

সেদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে অবরোধ কর্মসূচি। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে শাহবাগকে কেন্দ্র করে চলে এ কর্মসূচি। আন্দোলনকারীরা দাবি জানান, সরকারি চাকরির সব গ্রেডে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রেখে কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার করে তা সংসদে আইন হিসেবে পাস করতে হবে। একই সঙ্গে তারা ঘোষণা দেন, ১১ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সারা দেশে আবারও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করা হবে।

ঢাকার ১৮ স্থানে অবরোধ, অচল রাজধানী

রাজধানীর অন্তত ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা সেদিন অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থেকে মিছিল শুরু করে বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, পরীবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়সহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। এতে মগবাজার, মৌচাক, হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বিজয় সরণি, সংসদ ভবন, নিউ মার্কেট, মিরপুর রোড এবং শান্তিনগর পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফার্মগেট অংশে আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণে এক্সপ্রেসওয়েতেও যান চলাচল বন্ধ ছিল। কারওয়ান বাজার রেললাইনেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন, ফলে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

সায়েন্সল্যাব মোড়, জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান, পল্টন, মতিঝিল, বকশীবাজার, মহাখালী ও রামপুরায় অবরোধের ফলে ঢাকার দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সারা দেশে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ

ঢাকার বাইরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী, ঢাকা-আরিচার সাভার, ঢাকা-খুলনার গোপালগঞ্জ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ, পাবনা, দিনাজপুর, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও পটুয়াখালীসহ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের একাধিক স্থানে শিক্ষার্থীরা অবরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

বরিশালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বিএম কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা অবরোধ করেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা রেল ও সড়কপথ অবরোধ করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো বহু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দিনভর অবরোধে অংশ নেন।

পটুয়াখালীতে পায়রা সেতুর টোলপ্লাজা, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুরের মাটিখোলা এবং গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেও অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।

রেল যোগাযোগ ছয় ঘণ্টা বন্ধ ছিল

সেদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ সাতটি স্থানে রেলপথ অবরোধ করা হয়। ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ দুপুর ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেও রেলপথ অবরোধ করা হয়। এতে তিস্তা এক্সপ্রেস প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে থাকে। ডুয়েটের শিক্ষার্থীরা গাজীপুরে এক ঘণ্টার জন্য রেলপথ বন্ধ করে রাখেন।

সন্ধ্যার পর কিছু অবরোধ প্রত্যাহার

১০ জুলাই সন্ধ্যা নাগাদ কিছু জায়গায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় রাত পৌনে ৮টার দিকে। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ৭টায় জিরো পয়েন্ট ছাড়েন।

উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ

সরকারি চাকরির ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোটার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষে ১০ জুলাই আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থার আদেশ দেয়। এতে কোটাব্যবস্থা পূর্বাবস্থায় থেকে যায় অর্থাৎ ওই পাঁচটি গ্রেডে কোটা থাকবে না। আদালত আশা প্রকাশ করে, শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাবে এবং আন্দোলনের বক্তব্য আইনজীবীদের মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করবে।

আন্দোলনের নতুন ঘোষণা

আন্দোলনের অন্যতম নেতা আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলম ১০ জুলাই শাহবাগের সমাবেশে জানান, সরকারের কাছে তাদের একমাত্র দাবি—সব গ্রেডে কোটা বাতিল করে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটার সীমা রেখে সংসদে আইন পাস করতে হবে। তারা আবারও ঘোষণা দেন, ১১ জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সারা দেশে নতুন করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালিত হবে।

সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের দাবি আদালতের কাছে নয়, সরকারের কাছে। আদালত পরিপত্র নিয়ে কাজ করছে কিন্তু পরিপত্র বাতিল বা জারি করার একমাত্র অধিকার সরকারের।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর