1. admin@dailytolper.com : admin :
নোটিশ:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকা থেকে আপনাকে স্বাগতম। তোলপাড় পত্রিকা আপনার আমার সবার। আপনার এলাকার উন্নয়নের ভূমিকা হিসেবে পত্রিকাটির মাধ্যমে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি।   এ জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা-বিভাগ-কলেজ ক্যাম্পাসসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাংবাদিক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পত্রিকাটির পর্ষদ।  আগ্রহী হলে আপনিও এক কপি রঙিন ছবিসহ নিম্ন ঠিকানায় সিভি প্রেরণ করে নিয়োমিত সংবাদ পাঠাতে পারেন।   প্রচারে প্রসার, আপনার প্রতিষ্ঠান সারা বিশ্বে প্রচারেরর জন্য বিনামূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।   বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন-০১৭১৯০২৬৭০০, prohaladsaikot@gmail.com

ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসকসহ ৫৪ জনের পদ শূন্য, জোড়াতালি দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা !

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২২ টাইম ভিউ

Visits: 0

এমদাদুল হক মিলন, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম):

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে পর্যপ্ত চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি ইসিজিসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি সচল থাকলেও টানা ১৩ বছর ধরে এক্স-রে মেশিনটি অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা থেকে বি ত হচ্ছে উপজেলাবাসী। এ যেন দেখার কেউ নেই। দ্রত চিকিৎসক সংকট ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৩ বছর থেকে অচল অবস্থায় পড়ে থাকা এক্স-রে মেশিনটি সচল রাখার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে, ভারত সীমান্ত ও ধরলা বেষ্টিত ১৯৮৪ সালে ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও রোগীর কথা বিবেচনা করে ২০১০ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে সরকার। সে থেকে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকট থাকায় জোড়াতালি দিয়ে চলছে স্বাস্থাসেবার কাজ। চিকিৎসকসহ মোট ১৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকা কথা থাকলেও মাত্র ৭ জন চিকিৎসকসহ মোট ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছে। ১৪ জন চিকিৎসকসহ ৫৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে শূণ্য থাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বি ত হচ্ছে এ অ লের মানুষ। ফলে চরম ভোগান্তি নিয়ে উপজেলার হাজারও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ও পরিবারসহ অনেকেই নিজেকেই সুস্থ থাকতে চিকিৎসাসেবা নিতে মোটা অংকের টাকা খরচ করে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুর যেতে বাধ্য হচ্ছে।

সুত্রে আরও জানা গেছে, উপজেলা স্থাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তাসহ মোট ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছে ৭ জন। এই ৭ কর্মরত চিকিৎসক হলেন, উপজেলা স্থাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা, জুনিয়ার কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়ার কনসালটেন্ট (গাইনী), জুনিয়ার কনসালটেন্ট (এ্যানেনথিয়া) ,মেডিকেল অফিসার ১ জন, সহকারী সার্জন ২ জন ও ডেন্টাল সার্জন ১ জন।

শূণ্য চিকিৎসকের পদগুলো হলো, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ১ জন, জুৃনিয়ার কনসালটেন্ট (ফিজিক্যাল মেডিসিন) ১ জন, কনসালটেন্ট (মেডিকেল) ১ জন, কনসালটেন্ট (অর্থো-সার্জারী) ১ জন , কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ১ জন, কনসালটেন্ট (শিশু) ২ জন, কনসালটেন্ট (ইএনটি) ১ জন,সনসালটেন্ট (চক্ষু) ১ জন , কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন) ১ জন, মেডিকেল অফিসার ১ জন,সহকারী সার্জন ৩ জন। অন্য দিকে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে একজন করে উপ-স্বাস্থ্য সহকারী সার্জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও আছে শুধুমাত্র ফুলবাড়ী ইউনিয়নে ১ জন সহকারী সার্জন কর্মরত আছে। বাকী ৫ ইউনিয়নে সহকারী সার্জনের ৫ টি পদ শূণ্য থাকায় সেবা থেকে বি ত ওই ইউনিয়নবাসী।

দ্বিতীয় শ্রেণীÑ নার্সিং সুপারভাইজার মঞ্জুরীকৃত পদ ১ জন কর্মরতও ১, সিনিয়র স্টাফ নার্স মঞ্জুরীকৃত পদ ২৫ জন কর্মরত ২৩ জন, শূণ্য ২ জন, মিডওয়াফ মঞ্জুরীকৃত পদ ৪ জন কর্মরত ৪ জন।

তৃতীয় শ্রেনীর মঞ্জুরীকৃত প্রধান সহকারী কাম-হিসাব রক্ষক কর্মরত ১ জন, পরিসংখ্যানবিদ ১ জন কর্মরত, স্টোর কিপার পদ ১ জন শুন্য,স্যাকমো কর্মরত ২ জন, ফার্মাসিষ্ট কর্মরত ২ জন,মেডিঃ টেক ঃ (ল্যাবঃ) কমরত ১ জন, মেডিঃ টেকঃ রেডিও) কর্মরত ১ জন, ,মেডিঃ টেকঃ (ইপিআই) কর্মরত ১ জন, কার্ডিও গ্রাফার ১ জন কর্মরত, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ২ জন কর্মরত, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১ জন কর্মরত, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ২ জন কর্মরত ২, স্বাস্থ্য সহকারী ১৫ জন কর্মরত, ডাইভার ১জন কর্মরত, গার্ডেনার ১ জন কর্মরত। নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য (স্যাকমো) ১ জন কর্মরত, শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য (স্যাকমো) ১ জন কর্মরত,ভাঙ্গামোড় ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য (স্যাকমো) ১ জন কর্মরত,
প্রধান সহকারী ১ জন শূন্য, ক্যাশিয়ার ১ জন শূন্য, মেডিঃ টেকঃ (ডেন্টাল) ১ জন শূন্য, মেডিঃ টেকঃ (ফিজিও) ১ জন শূন্য, স্যানিটারী ইন্সেপেষ্টর ১ জন শূন্য, হেলথ এডুকেটর ১ জন শূন্য , সহকারী নার্স ১ জন শূন্য, জুনিয়র মেকানিক ১ জন শূন্য, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ১ জন শূন্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১ জন শূন্য, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৩ জন শূন্য, স্বাস্থ্য সহকারী ১০ জন শূন্য , ফুলবাড়ী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য (স্যাকমো) ১ জন শূন্য, বড়ভিটা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য (স্যাকমো) ১ জন শূন্য, কাশিপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য (স্যাকমো) ১ জন শূন্য। চতুর্থ শ্রেণীর অফিস সহকারী কর্মরত ৪ জন,ওয়ার্ড বয় কর্মরত ৩ জন, আয়া ১ জন কর্মরত, মালী ১ জন কর্মরত, নিরাপত্তা প্রহরী ১ জন কর্মরত, পরিছন্নতা কর্মী ৩ জন কর্মরত, কুক/ মশালচী ২ জন শূন্য নিরাপত্তা ১ জন শূন্য ও পরিছন্নকর্মী ২ জন শূণ্য।


এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ সুমন কান্তী সাহা জানান, পর্যাপ্ত চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকট থাকলেও চিকিসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে কর্মরত চিকিৎসকরা দ্বিগুন চাপ সহ্য করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে । সেই সাথে অচল অবস্থায় পড়ে থাকা এক্স-রে মেশিনটির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। আশাকরি সব সমস্যা দ্রুত কেটে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা ডাঃ হামিদুল হক খন্দকার জানান, নির্বাচনের আগে আমার প্রতিশ্রুতি ছিল স্বাস্থ্য ক্ষাতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। যেহেতু জনগণ আমাকে নির্বাচিত করেছে তাই অন্যান্য উন্নয়নের পাশাপাশি কুড়িগ্রাম জেলা শহরে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ফুলবাড়ী ও রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকট দুর করার পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 তোলপাড়
Customized BY NewsTheme