শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
শোকার্ত:

হাইকোর্ট-মাউশি মুখোমুখি : বিপাকে প্রধান শিক্ষক

প্রকাশের সময়: সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

সংবাদদাতা, কুড়িগ্রাম:

হাইকোর্টের নির্দেশে চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বিল স্থগিত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর) সে বিল দিতে নোটিশ জারি করায় বিপাকে পড়েছেন একজন প্রধান শিক্ষক। কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় অবস্থিত যাদুরচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনা এটি। ওই প্রধান শিক্ষকের নাম আব্দুল মতিন।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, জাল সার্টিফিকেট ও দীর্ঘ ২ বছর ধরে স্কুলে অনুপস্থিত থাকায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি বাবলু মিয়া নামের এক কর্মচারীর বেতনভাতা স্থগিত করে। এ নিয়ে মামলা-পাল্টা মামলা ও পরে হাইকোর্ট এক বছরের জন্য তার বেতনভাতা স্থগিত করে। কিন্তু হঠাৎ করেই মাধ্যমিক-১ এর শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ দেয়া হয় তাকে। সেখানে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাবলু মিয়ার বন্ধকৃত বেতনভাতাদি প্রদানসহ স্বপদে এমপিওভুক্ত করে মহাপরিচালক বরাবরে অবহিত করণের নির্দেশ দেয়া হয়। এতে উভয় সংকটে পড়েছেন প্রধান শিক্ষক।

তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালের বেসরকারি শিক্ষা পরিপত্র অনুযায়ী পিয়ন পদ বাতিল হওয়ায় অফিস সহকারী পদের দাবি করে বাবলু মিয়া। কিন্তু এ পদে তাকে বহাল করতে গেলে নতুন করে সার্কুলার দিতে হয়। এতে তার বয়স সমর্থন করে না। ফলে তাকে একই বেতনস্কেলের নিরাপত্তাকর্মীর পদে পদায়ন করা হয়। এ পদ তার মনঃপূত হয়নি। তাই একাধিক মামলাসহ বিভিন্ন দপ্তরে সত্যমিথ্যা নানা রটনা রটে বেড়াতে থাকে সে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে এক বৈঠকে মিমাংসা হয় এবং স্ট্যাম্পে সহি স্বাক্ষরও হয়। সেটা নিয়েও মিথ্যা ছড়ায় বাবলু মিয়া।

এদিকে এ চিঠি প্রকাশের পর রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল কুমার হালদারের নিকট বেতনভাতাদি চেয়ে আবেদন করে বাবলু মিয়া। নির্বাহী কর্মকর্তাও তাকে বেতন দেয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই অফিসে এসে কাজে ব্যঘাত ঘটায় বাবলু মিয়া। এতে নির্বাহী কর্মকর্তা কিছুটা রাগান্বিত হয়ে প্রতিদিন অফিসে না আসার জন্য বলে তাকে। এ রাগান্বিত অবস্থায় বাবলু মিয়াকে অফিসে না আসতে বলার ঘটনাটিকে গোপনে ভিডিও করে সাংবাদিকদের সরবরাহ করে বাবলু মিয়া। এনিয়ে এলাকায় শুরু হয় তোলপাড়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল কুমার হালদার বলেন, অনুমতি ছাড়া যে কোনো ব্যক্তির গোপনে ভিডিও ধারণ করা আইনত অপরাধ। যা বাবলু মিয়া করেছে। তবে তার বেতনভাতাদি দেয়ার ব্যাপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক-১ এর শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন বলেন, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তাই ভুল বশত চিঠি প্রদান করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর