শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চলতি বছরের চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করলো বিসিবি ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে জানালো দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী দুলু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট মুক্ত গড়ে তোলা হবে বললো বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংমুক্ত করা হবে বললো শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন জামায়াত আমির দলীয় শুদ্ধিকরণে প্রাধান্য দিন—অন্যথায় দেশবাসী হতাশ হবে: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে টিআইবি তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বাজারে বেড়েছে মাছ-সবজির দাম, মুরগিতে কিছুটা স্বস্তি ১০ দিনের সময় ট্রাম্পের, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন:

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি) ২০২৫ বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ

প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

প্রেস রিলিজ :

জনসাধারণ, নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ও স্টেকহোল্ডারদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা বা উন্মুক্ত পরামর্শ ছাড়াই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (ইপিএসএমপি) ২০২৫ অনুমোদনের পথে পা বাড়ানোতেই চট্টগ্রামের এক প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনাটি (২০২৬–২০৫০) গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করেই তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশ ও সমাজের প্রভাব পর্যাপ্তভাবে বিবেচনা করা হয়নি এবং জনগণের অংশগ্রহণকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ। বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)-এর উদ্যোগে এবং আইএসডিই বাংলাদেশ, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর সহ-আয়োজনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনাটি (২০২৬–২০৫০) প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনসাধারণ, নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। নাগরিক সমাজ ও স্টেকহোল্ডারদের সাথে কোনো প্রকার আলোানা বা উন্মুক্ত পরামর্শ ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারের অস্বচ্ছ ও দায়মুক্তিমূলক নীতি প্রণয়নেরই পুনরাবৃত্তি।”

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল কেবল নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই সীমা অতিক্রম করে একটি দীর্ঘমেয়াদি, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোনো অর্থবহ অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। যেভাবে অতীতে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ব্যবহার করে বিতর্কিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, ইপিএসএমপি ২০২৫ সেই একই পথে ভবিষ্যতেও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পকে বৈধতা দেওয়ার কাঠামো তৈরি করছে।

মহাপরিকল্পনায় “এনার্জি ট্রানজিশন”-কে ব্যপক প্রচার করা হলেও বাস্তবে প্রকৃত নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ সেখানে মাত্র ১৭%, যেখানে কাগজে দেখানো হয়েছে ৪৪%। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ১৫.৮ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৫.২ গিগাওয়াট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ২৫ বছর পরও এলএনজি , কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা ৫০% থাকবে- যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া কো-ফায়ারিং ও কার্বন ক্যাপচার (সিসিএস)– এর মতো ব্যয়বহুল ও পরীক্ষামূলক প্রযুক্তিকে সমাধান হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয় এবং ভবিষ্যতে দেশকে নতুন ঋণ, ভর্তুকি ও পরিবেশগত সংকটে ফেলবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের কার্বন নির্গমন হবে ১৮৬.৩ MtCO₂e, যা দেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি)-এর লক্ষ্য এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত ‘শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন’ দর্শনের সঙ্গে এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে বিরোধী। পাশাপাশি শ্রমিক পুনর্বাসন, নারী ও লিঙ্গভিত্তিক ন্যায্যতা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পোশাক খাতের সবুজায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরিকল্পনায় প্রায় উপেক্ষিত রাখা হয়েছে। প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে জোরালো দাবি:

● অবিলম্বে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (ইপিএসএমপি ২০২৫) স্থগিত এবং সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।

● নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করতে হবে।

● জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে, বাস্তবসম্মত ১০০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।

● ন্যায্য, সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অন্যথায়, খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ বাংলাদেশের ইতিহাসে পরিণত হবে আরেকটি জনবিরোধী, অস্বচ্ছ এবং দায়মুক্তিমূলক নথি, যা দেশের জনগণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

প্রতিবাদ কর্মসুচিতে অন্যান্যদের মধ্যে সংহতি প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, এডাব চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চট্টগ্রাম মহনগরের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট নারী নেত্রী ডাঃ লুসি খান, বাংলাদেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেলস এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন এর কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, সবুজের যাত্রার নির্বাহী পরিচালক সায়েরা বেগম, দৈনিক পূর্বদেশের স্টাফ রিপোর্টার এম এ হোসেন, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ জানে আলম, চান্দগাও ল্যাবরেটরী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইসমাইল ফারুকী, ক্যাব পশ্চিশ ষোল শহর ওয়ার্ড এর সভাপতি এবিএম হুমায়ুন কবির, অধিকার চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ওসমান জাহাঙ্গীর, যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমান, যুব ক্যাব সদস্য সিরাতুল মুনতাহা, এমদাদুল ইসলাম, নাদিম আব্দুল্লাহ প্রমুখ ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর