রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজারহাটে তরুণের অভিযান গ্রন্থাগারের উদ্যোগে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত উলিপুরে জাতীয় পার্টির ৫ নেতাকে অব‌্যাহ‌তি কুড়িগ্রাম জেলা জাকের পার্টির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলীর ইন্তেকাল ভারত সীমান্তের ৬২ কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে ফেনসিডিলের বিকল্প ৪ নেশার সিরাপ ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে কুড়িগ্রামে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকযোগে সংগীতানুষ্ঠান সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শেষ অবধি শিশু আফনান মারা গেল প্রেমের সপ্তাহ শুরু, জেনে নেয়া যাক কোন দিন কী দিবস? জেলের ঘানি টানতে পারলো না ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক এমপি রমেশ চন্দ্র সেন হিন্দুদের নিরাপত্তা কোনো দল নয়, রাষ্ট্র দেবে: ড. আতিক মুজাহিদ সরকারের বিবৃতিতে যমুনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ছোড়েনি
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন:
[caption id="attachment_23460" align="alignnone" width="2560"] Print[/caption]

অভিমান

প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৪


-ফারুক আহম্মেদ জীবন

আকাশ সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই সে তার….
নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় রোপন করা নানান বাহারি প্রজাতির ফুল আর গোলাপ বৃক্ষ গুলোতে পানি দিচ্ছিল। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করার মূল সদর গেট থেকে চলার পথের দুই ধারে ফুল গাছ গুলো লাগানো।
ঢাকা সাভার থেকে এক দেড় কিলোমিটার দূরে…
একটু ভিতরে নিরিবিলি পরিবেশে দশ শতকের মতো জমির উপর চার রুম বিশিষ্ট বেশ ফিটফাট সাজানো গুছানো পরিপাটি ছোট্ট স্বপ্নের বাড়িটি আকাশ আর মেঘলার।
বাড়ির সামনের সারা আঙ্গিনা জুড়ে….
রকমারি পুস্পের সমারোহ। ঠিক যেন পুস্পে ভরা স্বর্গীয় অরণ্য ভূমির মতোই দেখতে লাগে তাদের বাড়ির আঙ্গিনাটি। কালো গোলাপ ফুল মেঘলার আবার খুব প্রিয়। আর তাই, মেঘলার অনুরোধে
আকাশ অনেক কষ্ট করে ফুলের রাজধানী যশোর ঝিকর গাছার গদখালি বাজারের প্রায় নিকটবর্তী ফুলের রাজ্য পানিসারা গ্রামের ফুলের মাঠ থেকে।
তারই দূরসম্পর্কের এক কাজিন এর মাধ্যমে চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙ্গিনায় লাগিয়েছে। ফুল গাছ গুলোতে পানি দেওয়ার সময় হঠাৎ করে আকাশের মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো…।
মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠলো তার সেই চির চেনা খুব পরিচিত নাম্বারটি…..
যে নাম্বারটির সাথে কয়েক বছর আগে থেকে আকাশের পরিচিতি।সে নাম্বার আর অন্য কারোর নয়। তারই স্ত্রী মেঘলার নাম্বার। কলেজে দুজনার প্রথম পরিচয় হয়। তারপর একটু একটু করে দুজন দুজনার ভালোলাগা। তারপর দুজন কাছা-
কাছি আসা, পাশাপাশি বসা। এক সময় দুজনার মনে দুজনার জন্য সৃষ্টি হয় ভালোবাসা।অবশেষে দুজনার লাভ ম্যারেজ।
যাহোক যেটা বলছিলাম….
মেঘলার ফোন আসতেই অজানা একটা ভয়ে আকাশের বুকটা যেনো ধপ করে কেঁপে উঠলো।
মনেমনে বিড়বিড় করে আকাশ বলে উঠলো হঠাৎ মেঘলার ফোন!
কিছু হলো নাতো মেঘলার! আকাশ ছেলেটা না মেঘলাকে বড্ড বেশি ভালোবাসে। আকাশের স্ত্রী
মেঘলাও প্রচন্ড ভাবে ভালোবাসে আকাশকে।
দুজন কেউ কাউকে ছেড়ে একমুহূর্তের জন্যও দূরে থাকতে পারেনা।
ডাগর ডাগর ভাসা ভাসা বড় মায়াবী চোখ দুটো মেঘলার। যে কোনো পুরুষ মেঘলার চোখের দিকে তাকালে নিঃসন্দেহে নিজেকে হারিয়ে ফেলবে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে একটা ছোট্ট অভিমানে দুজনার মধ্যে এই দূরত্ব।
দুই সপ্তাহ আগের কথা। আকাশ আর মেঘলার প্রথম বিবাহ বার্ষিকী ছিলো।মেঘলা আগেই আকাশকে বলেছিল একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরতে। আকাশও মেঘলার কথা রাখার জন্য অফিসের সব কাজ কর্ম শেষ করে বাড়িতে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। ঠিক সে সময়
হঠাৎ! অফিসের বড় স্যারের আদেশে কক্সবাজার যেতে হলো আকাশকে।
এক জরুরী মিটিংএর জন্য। আকাশের স্যার অবশ্য নিজে যেতে চাইছিলো। কিন্তু স্যারের ছোট মেয়ে কাজলের অসুস্থতার সংবাদ আসতে স্যার আকাশের উপর দ্বায়িত্ব দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেল।
এদিকে মোবাইলেও কোন চার্জ না থাকায়। সেই মুহুর্তে তার স্ত্রী মেঘলাকেও বিষয়টা আকাশ জানাতে পারলোনা।
আর এদিকে রাতেরবেলা মেঘলা খুব সুন্দর করে সেজে গুজে আকাশের জন্য অপেক্ষা করছিলো..
তারপর কখন যে মেঘলা টেবিলের উপর মাথা রেখে রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলো মেঘলা তা-নিজেও জানেনা।
খুব সকালে ঘুম থেকে জেগে যখন মেঘলা দেখে আকাশ রাতে বাড়ি ফিরিনি।
রাত্রের কথা মনে পড়তেই আকাশের উপর ভীষণ অভিমান হলো মেঘলার।
রাগে ক্ষোভে মেঘলা সুটকেস গুছিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেল।
আকাশ কক্সবাজারে পৌঁছে মোবাইল চার্জ করে অনেকবার ফোন করেছে মেঘলাকে।
প্রথমদিকে মেঘলা আকাশের ফোন ধরিনি। শেষে ফোনটা ধরেছে মেঘলা…।
আকাশ এপাশ থেকে সরি বলে ঘটনা বলতেই… মেঘলা বেশ গম্ভীর কন্ঠে অভিমানের সুরে বললো আমি তোমার কোন কথা শুনতে চাইনে।
তুমি আর কখনো আমার কাছে ফোন দেবেনা
ব্যস..।
তুমি তোমার চাকুরীর ব্যস্ততা আর টাকা নিয়েই থাকো। আমার তো, তোমার কোনো প্রয়োজন নেই তাইনা..।
আকাশ খুব বিনয়ী মলিন কন্ঠে নরম সুরে বললো
তুমি কোথা থেকে কথা বলছো মেঘলা?
নেঘলা বললো…কোথা থেকে বুঝতে পারছোনা..?
তার–মা–নে–তুমি—-আমতা আমতা করে
তু–মি–তু–মি…।
আকাশের কথা শেষ না হতেই ফোন কেটে দিলো এপাশ থেকে মেঘলা। এরপর অভিমান করে…
আকাশও আর মেঘলার কাছে ফোন করিনি হঠাৎ আজ মেঘলান ফোন…!
আস্তে করে আকাশ ফোনটা হাতে তুলে নিলো।
ওপাশ থেকে মেঘলা…হ্যালো…হ্যালো…হ্যালো.. আকাশ? আকাশ বেশ কিছুক্ষণ নিরব থাকার পর বললো..হুম বলছি…।
মেঘলা বললো…কেমন আছ আকাশ..?
আকাশ বললো…আছি একরকম। তুমি..? তুমি
কেমন আছ? তোমাকে ছেড়ে আমি….কান্না কান্না জড়িত কন্ঠে বললো মেঘলা..।
আকাশ বললো…তাহলে গেলে কেনো? রাগ করে. তারপর বললো…তুমি তো এসে আমাকে নিয়ে যেতে পারতে। কি পারতে না..?
মেঘলা, নাস্তা করেছ? আকাশ, না, তুমি? এখনও করিনি।।আকাশ বললো…নাস্তা করে নাও। তা-না হলে শরীর খারাপ করবে।
মেঘলা বললো…হুম করবো। তারপর বললো..কি করছো?ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে মেঘলা বললো…নিশ্চই তুমি এখন আমার গোলাপ ফুল বৃক্ষ গুলোতে জল ঢালছো তাইনা?
আকাশ বললো…হুম, তুমি জানলে কি ভাাবে?মেঘলা হেসে উঠে বললো…জানি মহারাজ-জানি।
Every Morning আমার মহারাজ ফজরের নামাজ শেষে কুরআন তেলাওয়াতের পর ভোরের
আলো ফুটলে রুটিন মাফিক কোন কাজটি করে থাকে।
সেটা..তো…আর…আমার…অজানা…নয় তাইনা?
মেঘলা জানে, প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে কিছুক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত করার পর আকাশ প্রতিদিন সকাল বেলা সে তার আঙ্গিনার গোলাপ গাছ গুলোতে পানি দেওয়াই আকাশের অভ্যাস।
কিছুক্ষণ থেমে একটু ভয়ার্ত গলায় মেঘলা কাঁপা
কাঁপা গলায় বললো,জানো-আকাশ, আব্বুর না
শরীরটা অনেক খারাপ।
আকাশ শুনে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলে উঠলো সেকি! কি বলছো..কি হয়েছে? কখন থেকে?
মেঘলা বললো,গত রাত থেকে।অতিরিক্ত হাইপার টেনশনের কারণে। হঠাৎ প্রেসারটা বেড়ে গিয়েছিলো। নিচে থেকে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠার সময় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে…তারপর কাঁদতে লাগলো। আকাশ বললো, বলো কি..? কেঁদো না। তারপর..তারপর এখন…এখন.. কি অবস্থা..
উনার.? তারপর বললো…ডক্টর ডেকে ছিলে?মেঘলা বললো.. হুম মেডিসিন খেয়ে কিছুটা সুস্থ, এখন ঘুমাচ্ছে। ডক্টর মনে হয় ঘুমের ওষুধ দেছে। আকাশ? আকাশ বললো..হুম বলো শুনছি।মেঘলা বললো, আব্বু তোমাকে একবার আসতে বলেছে আজ। আসতে পারবে তুমি আকাশ..?
কি বলছো.?তোমার আব্বুর ঐ অবস্থা আর আমি আসতে পারবো না..?
আমি এক্ষুনি গুছিয়ে আসছি।বলেই আকাশ দ্রুত জল ঢেলা রেখে ওর রুমে গিয়ে শার্ট প্যান্ট পরে চললো মেঘলার–বাপের..বাড়ির..উদ্দেশ্যে । অল্প
সময়ের মধ্যে পৌঁছে গেলো আকাশ মেঘলার বাপের বাড়ি। আকাশ গিয়ে নামকরা ডক্টর ডেকে
আনলো তার শশুরের উন্নত চিকিৎসার জন্য। দুই
একদিনের মধ্যে বেশ সুস্থ হয়ে উঠলো মেঘলার আব্বা। এভাবে আবারো দুজনার মনের টানে আর নিবিড় ভালোবাসার জোরে দুজনার দুটি মন সব রাগ অভিমান ভুলে এক হলো।মেঘনার আব্বা
পুরো সুস্থ হয়ে উঠলে। আকাশ তার স্ত্রী মেঘনাকে নিয়ে শশুর বাড়ির সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাইকে চড়ে হাসিখুশি মুখে নিজেদের স্বপ্নের বাড়িতে ফিরে এলো।

নারাংগালী ঝিকরগাছা যশোর বাংলাদেশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর