বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কুয়াশার সঙ্গে আসছে শৈত্যপ্রবাহ, বাড়বে দুর্ভেোগ ২৮ কুড়িগ্রাম-৪ আসনের “জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে” তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে বদলগাছী উপজেলা প্রেসক্লাবের অভিষেক মোটরসাইকেল কিনে না দেয়ায় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করলো স্কুলছাত্র নড়াইলে ইট ভাটায় অভিযানে ২ লাখ টাকা জরিমানা নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলল ভারত ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ১০ সুপারিশ দিরো এডাব ও ক্যাপস রাজারহাটে লাঠিয়ালের পাঠ সার্বজনীন মহাদেব মন্দিরে মহাদেব পূজা ও মিলন মেলা অনুষ্ঠিত রাজারহাটে গলায় রশি দিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা কু‌ড়িগ্রা‌মে ট্রা‌কের ধাক্কার সাবেক সেনা সদস্যর মৃত‌্যু, ছে‌লে আহত
শোকার্ত:

৬ ডিসেম্বর রাজারহাট মুক্ত দিবস

প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত:

৬ডিসেম্বর(শুক্রবার) রাজারহাট হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এদিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলাকে পাক-হানাদার মুক্ত করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হলেও এ অঞ্চলে সেদিন উদিত হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। তবে দিবসটি উদযাপনে রাজারহাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবারে কোন কর্মসূচী ঘোষণা হয়নি বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

৭১’র ২৮ মার্চ কুড়িগ্রাম সংগ্রাম কমিটির নেত্বত্বে স্থানীয় গওহর পার্ক মাঠে এক বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখান থেকে আহম্মদ আলী বকসী, অধ্যাপক হায়দার আলী, তাছাদ্দুক হোসেন ও মহির উদ্দিন আহম্মদকে নিয়ে স্থানীয় কমান্ড গঠন করা হয়। তাদেরই নির্দেশে বিভিন্ন থানা থেকে গোলাবারুদ, অস্ত্র সংগ্রহ করে তৎকালীন মহকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি আহম্মদ হোসেন সরকারের রাজারহাট উপজেলাধীন টগরাইহাট গ্রামের বাড়ীতে অস্ত্র মজুদ করা হয়।

এর পর ওই বাড়ীতে স্থানীয় যুবক ও ছাত্রদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কলাকৌশল শেখানো হয়। পরবর্তীতে রাজারহাটস্থ ওই বাড়ী থেকে প্রথমে পুলিশ-আনসার-ছাত্র ও স্থানীয় যুবকদের মধ্যে অস্ত্র বিতরন করে কুড়িগ্রাম অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করা হয়। ২৮ মার্চ রংপুরের ইপিআর উইং এর সহকারী অধিনায়ক ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গার এক বাড়ীতে উঠেন। সেখান থেকে সংবাদ পাঠান রাজারহাট আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে। ২৯ মার্চ সকালে তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেতা জহির উদ্দিন আহমেদ, আছমত উল্লাহ্ ব্যাপারী ও আলী মনসুর সেখানে যান। ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে কুড়িগ্রাম আওয়ামীলীগকে বিষয়টি অবগত করেন।

৩০ মার্চ ক্যাপ্টেন নওয়াজেশের নির্দেশে ওই উইং এর অধিনস্থ অধিনায়ক সুবেদার নুর মোহাম্মদ, সুবেদার আঃ মান্নান, সুবেদার আরব আলী ও বোরহান উদ্দিন তাদের সহযোদ্ধা ইপিআরদের নিয়ে রাজারহাট হয়ে কুড়িগ্রামে যান। ১এপ্রিল পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমন ঠেকাতে তিস্তা ব্রীজের অপর পাশে মুক্তিযোদ্ধারা একটি শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি করে। এসময় ইপিআর সদস্যরা রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যাম্প তৈরি করে। ৪এপ্রিল পাকবাহিনী হারাগাছ দিয়ে তিস্তা নদী পার হয়ে লালমনিরহাটে অবস্থান নিলে মুক্তিযোদ্ধারা তিস্তার পূর্বপাড়ের ঘাঁটি রাজারহাট ও কুড়িগ্রাম নিয়ে আসেন।

এরপর পাকবাহিনী দু’বার রাজারহাট আক্রমন করে। অবশেষে মধ্য এপ্রিলে হানাদার বাহিনী রাজারহাট দখল করে নেয়। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী রাজারহাট দখল করে তাদের দোসরদের সহযোগীতায় সাধারন মানুষের ঘর-বাড়ীতে আগুন, লুটপাট, ধর্ষন ও গণহত্যা চালায়। অবশেষে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিগ্রেডিয়ার যোশীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৬ষ্ঠ মাউন্টেড ডিভিশনের সহযোগীতায় পাকবাহিনীর উপর পাল্টা আক্রমন চালিয়ে ৬ ডিসেম্বর রাজারহাট মুক্ত করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর