• শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে পুরনো লিথিয়াম ব্যাটারি

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

 

 

বাংলাদেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে পুরনো লিথিয়াম ব্যাটারি। বিগত ২০২৫ সালে প্রায় ২৯৭ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলার ছিলো বাংলাদেশের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির বাজার। আর আগামী ২০৩০ সালে তা ছাড়াতে পারে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে ইজিবাইক, সৌরবিদ্যুৎ স্টোরেজ, আইপিএস, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ডিসি যন্ত্রপাতিতে সবচেয়ে বেশি লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। আর ওসব ব্যাটারির ভালো সেল আলাদা করে নতুন কেসিং ও বিএমএস (ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) লাগিয়ে নতুন হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। কম দামের কারণে সাধারণ ক্রেতারা সেগুলো কিনলেও এক-দুই বছরের মধ্যেই অধিকাংশ ব্যাটারি শক্তি হারিয়ে পরিণত হচ্ছে বিপজ্জনক ই-বর্জ্য। তাতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি বাড়ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।-খবর তোলপাড়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিপুল চাহিদার কারণে দেশে নতুন ব্যাটারির পাশাপাশি বিদেশ থেকে দেশে ঢ়ুকছে পুরোনো, লাইফসাইকেল শেষ হওয়া ও স্ক্র্যাপ লিথিয়াম ব্যাটারি। কিন্তু দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় সঠিক মানের লিথিয়াম ব্যাটারি জরুরি। ভালো মানের লিথিয়াম ব্যাটারি ৫ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি ৫ থেকে ৩০ বছর ও লিথিয়াম টাইটানেট ব্যাটারি ২৫ থেকে ৮০ বছর নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহার করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশে নতুন ব্যাটারির পাশাপাশি পুরোনো ও বাতিল ব্যাটারির আমদানি বাড়ছে। তাতে ঝুঁকির মুখে পড়ছে পুরো খাত।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ১২ হাজার লাইফ সাইকেলের ১২ ভোল্ট ৩০ এম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি পাওয়া যাচ্ছে। আর তা শুধু সোলার প্যানেল যুক্ত করলে ৩২ বছর ধরে ১৮ ওয়াটের দুটি ডিসি ফ্যান ও ৫ ওয়াটের চারটি ডিসি এলইডি বাল্ব একসঙ্গে দৈনিক (রাতে) ৬ ঘণ্টা করে চালানো যায়। আবার একই ক্ষমতার লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি মিলছে ৭ হাজার টাকায়। যা দুই বছরের মধ্যে শক্তি হারিয়ে পরিণত হচ্ছে বর্জ্য।ে কারণ স্ক্র্যাপ হিসেবে আসা ব্যাটারি থেকে ভালো সেল আলাদা করে নতুন কেসিং ও বিএমএস লাগিয়ে নতুন ব্যাটারি হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হয়। আর দাম কম হওয়ায় ক্রেতারাও আকৃষ্ট হয়। পাশাপাশি পুরোনো সেল দিয়ে তৈরিকৃত ব্যাটারিও দেশে আসলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্রেতারা তা বুঝতে পারে না। পুরোনো ব্যাটারি আমদানিতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় পর্যায়ের ব্যবসায়ি জড়িত। বিভিন্ন এইচএস কোড ব্যবহার করে কখনো স্ক্র্যাপ ব্যাটারি, কখনো এনার্জি স্টোরেজ মডিউল, সোলার স্টোরেজ ইকুইপমেন্ট, ইলেকট্রনিক পার্টস ইত্যাদি নামে দেশে ঢ়ুকছে ওসব ব্যাটারি।

সূত্র আরো জানায়, লিথিয়াম ব্যাটারি অগ্নিকান্ড ও বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাছাড়া ব্যাটারিতে থাকা লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ ও বিষাক্ত ইলেকট্রোলাইট মাটি ও পানিতে মিশে পরিবেশ দূষণ করে। যা তৈরি করে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাছাড়া অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যাটারি ভাঙলে বিষাক্ত গ্যাস ছড়ানোর ঝুঁকিও থাকে। কিন্তু দেশে এখনো গড়ে ওঠেনি আধুনিক লিথিয়াম ব্যাটারি রিসাইকেল শিল্প। ফলে পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের স্ক্র্যাপ হাবে অনিরাপদ পরিবেশে ভাঙা হচ্ছে ব্যাটারি। আর তা থেকে মূল্যবান ধাতু আলাদা করতে সেগুলো পাঠানো হচ্ছে অনুমোদনহীন কারখানায়। অথচ লিথিয়াম ব্যাটারি শুধু বর্জ্য নয়, সেটিকে আরবান মাইনও বলা হয়। কারণ রিসাইকেলের মাধ্যমে ওসব ব্যাটারি থেকে লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, কপার, অ্যালুমিনিয়াম ও গ্রাফাইটের মতো মূল্যবান উপাদান উদ্ধার করা যায়। কিন্তু আধুনিক রিসাইকেল প্ল্যান্ট ছাড়া ওই ধরনের ব্যাটারি নিরাপদভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব নয়।

এদিকে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যয় এড়াতে উন্নয়নশীল দেশে কম দামে স্ক্র্যাপ ব্যাটারি বিক্রি করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে এখনই নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। পুরোনো ও স্ক্র্যাপ লিথিয়াম ব্যাটারি আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আধুনিক রিসাইকেল শিল্প গড়তে হবে। নাহলে সবুজ শক্তির আড়ালে বাংলাদেশ বিপজ্জনক ই-বর্জ্যরে গন্তব্যে পরিণত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর