• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

ইরান যুদ্ধে ৩৯টি বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

 

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৩৯টি বিমান হারিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের এক প্রতিবেদনের বরাতে গতকাল মঙ্গলবার সিনেটে একটি বিশেষ কমিটির শুনানিতে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা এড কেস এই তথ্য তুলে ধরেন।-খবর তোলপাড়।

শুনানিতে সিনেটর এড কেস পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জে হার্স্টকে প্রশ্ন করেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩৯টি বিমান হারিয়েছে এবং এটি প্রায় এক মাস পুরোনো তথ্য—এই ক্ষয়ক্ষতি কি যুদ্ধের মোট ব্যয়ের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কিনা।

‘দ্য ওয়ার জোন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় মার্কিন বিমান বাহিনী প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে। এ সময় ৩৯টি বিমান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস এবং আরও ১০টি বিমান বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের আকাশসীমার ভেতরে একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে সিনেট শুনানির সময় পেন্টাগনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেননি।

এদিকে পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জে হার্স্ট আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। এই পরিমাণ গত মাসের তুলনায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি।

তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ ব্যয়ের মধ্যে মূলত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সামরিক ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি এবং যুদ্ধ শুরুর আগের প্রস্তুতিমূলক ব্যয় এই হিসাবে ধরা হয়নি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শত শত কোটি ডলারের অস্ত্রভাণ্ডারের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যার প্রতিটির মূল্য ৪০ লাখ ডলারের বেশি। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য সংরক্ষিত প্রায় ১ হাজার ১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ মিসাইলও ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রায় পুরো মজুদের কাছাকাছি।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলমান সংঘাতে ১ হাজারের বেশি প্রিসিশন স্ট্রাইক এবং এটিএসিএমএস স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে এসব অস্ত্রের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হলেও প্রকৃত চিত্র আরও জটিল, কারণ বড় লক্ষ্যবস্তুতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে।

দুটি স্বাধীন গবেষণা সংস্থার তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ৪০ দিনের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, অর্থাৎ দিনে গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করতে হলে মোট ব্যয় ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে ‘ইরান ওয়ার কস্ট ট্র্যাকার’ নামের একটি ওয়েবসাইটের হিসাবে, বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৭৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে। ওয়েবসাইটটির তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে প্রতি সেকেন্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১১ হাজার ৫৭৪ ডলার, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭ ডলার এবং প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে।

ওই ট্র্যাকার আরও জানায়, এই হিসাবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় যেমন যুদ্ধফেরত সেনাদের চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর