• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সার নিয়ে সুখবর, বাংলাদেশে চাহিদার চেয়েও মজুত ১৬ লাখ টন বেশি এসএসসির খাতা দেখায় অবহেলাকারীরা জবাবদিহির আওতায় আসছেন: বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা ইসির, প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘সরকার কিছু জানে না’ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ৫ আসামির ৫০ শতাংশ সম্পত্তি পাবে জুলাই শহীদের পরিবার আসিফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এআই দিয়ে বানানো? যা বলল দুদক গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব : বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ, আর্থিক সহায়তা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিক আশিক বহিষ্কার “কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য সহায়তা চাচ্ছেন” সজীব মিয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাদ্দাম ও ইনানের মৃত্যুদণ্ড
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী

প্রধান প্রতিবেদক:
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

Views: 0

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন আরও ৩ হাজার ৭৯ জন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থীর নম্বর ও গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের দেওয়া মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল দেখা যাচ্ছে।-খবর তোলপাড়।

এর আগে ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর প্রকাশ করা হলো ফল।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে পরীক্ষার্থীর তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা হয়। মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।

এবার পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছিলেন, এবার প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্র শুধু পুনঃনিরীক্ষণই নয়, পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে।

আগের নিয়মে পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। পুরো উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হতো না। এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষণের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি ৫৫ হাজার ২৫৯টি স্ক্রিপ্টে নম্বর পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গেছে।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। তাদের ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি স্ক্রিপ্ট পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৮ হাজার ৯৯৯ জনের গ্রেড এবং ২১ হাজার ৬৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ঢাকা বোর্ডে ৩৩৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯০৬ জন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৬২ জন পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৯৮ হাজার ৭১০টি স্ক্রিপ্ট পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৬৩১ জনের গ্রেড ও ১ হাজার ৪০০ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ১১১ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭ জন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯২৯ জন পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৯১ হাজার ৪৯৪টি স্ক্রিপ্ট দেখা হয়। এতে ২ হাজার ১৫৫ জনের গ্রেড এবং ৪ হাজার ৭০ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। এ বোর্ডে ৩৩৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০৭ জন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬২ জন আবেদন করেন। পুনঃনিরীক্ষণ করা হয় ৭৪ হাজার ৭১৭টি স্ক্রিপ্ট। এতে ১ হাজার ৬৮৪ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ৭৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ৩৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৮২ জন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি খাতা পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৯৭৫ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে ১৯০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ৮৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৮০ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ২৮৩ জন আবেদন করেন। পুনঃনিরীক্ষণ করা হয় ৫০ হাজার ২৯৩টি স্ক্রিপ্ট। এতে ১ হাজার ৫ জনের গ্রেড এবং ৩ হাজার ১১৮ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। এ বোর্ডে ৭৯ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১২ জন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে মোট ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০ হাজার ৭৮৩ জন পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৫০ হাজার ৭১৩টি স্ক্রিপ্ট পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ২৮৬ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৫৮৭ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ১৮৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ১২১ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ২৯৬ জন আবেদন করেন। পুনঃনিরীক্ষণ করা হয় ৮৯ হাজার ২৮৬টি খাতা। এতে ৩ হাজার ৩৫৪ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৬৩৬ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। এ বোর্ডে ৮৬৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৭৫ জন।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৭১ হাজার ৬৬টি স্ক্রিপ্ট পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৫ হাজার ৩২১ জনের গ্রেড এবং ৬ হাজার ৫০৮ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডেই সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ১৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭৭ জন।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে ৪০ হাজার ১২০ জন পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩টি স্ক্রিপ্ট পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ৫৪৯ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৯৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন করে ২৫৫ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ২৯৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৩০৭ জন পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৩৪ হাজার ৩০৫টি স্ক্রিপ্ট পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৬৬৭ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ১৭২ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ৬৬৪ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ জন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত ১৯ বছরের মধ্যে এটি ছিল সর্বনিম্ন পাসের হার। মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর বৃহস্পতিবার প্রকাশ হলো সেই পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর