• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৭ নভেম্বর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু রাজারহাটে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর উদ্বোধন দেখল উপজেলা প্রশাসন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: ভুটানকে হারিয়ে শুভসূচনা বাংলাদেশের রাতে পরীমনির ‘রহস্যময়’ স্ট্যাটাস ভাইরাল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরও মহাকাশ শক্তি বাড়াচ্ছে ইরান বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে অস্থিরতা কমলেও উৎপাদন বন্ধ ১৩০ কারখানায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে: নতুন ৩ সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিশ্ববাজারে আবার বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংসে অস্বস্তি
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

সীমান্তের শূন্য রেখায় বাকশূন্য ৯জনের অনিশ্চয়তার জীবন

তোলপাড় প্রতিবেদক:
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

Views: 5

হুমায়ুন কবির সূর্য:

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্ত পয়েন্টে কাঁটাতারের বাইরে শূন্যরেখায় তিন দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন পুশইনের শিকার ৯ বাংলাদেশি নাগরিক। অভিযোগ উঠেছে, গত রোববার (১৪ জুন) ভোররাত ৪টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ভুন্দুর সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।

পুশইনের সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্কে পড়ে। একদিকে কাঁটাতারের বেড়া, অন্যদিকে শূন্যরেখা, দুই পক্ষের ঠেলাঠেলির মধ্যে অসহায় অবস্থায় সময় কাটাতে হয় তাদের।

গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থানরত ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন দুই শিশু, এক নারী ও দুই পুরুষ। তাদের একজন সুমি আক্তার বলেন, “তিন দিন ধরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এখানে পড়ে আছি। আমার কোলে ছয় মাস বয়সী একটি শিশু এবং সঙ্গে চার বছরের আরেকটি সন্তান রয়েছে। খাবার নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই, মাথার ওপর কোনো ছাদও নেই। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে, কিছুই খাওয়াতে পারছি না। স্থানীয়রা মাঝে মাঝে বিস্কুট ও রুটি দিচ্ছেন, তা দিয়েই কোনোভাবে দিন পার করছি।”

তিনি আরও জানান, প্রায় ২৭ দিন আগে বাবা-মাসহ কাজের সন্ধানে অবৈধ পথে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।

সুমির স্বামী বেলাল বলেন, “ছোট ছোট সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এখানে পানি নেই, শৌচাগার নেই। দিনের প্রচণ্ড গরমে দুই শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জীবনে বড় ভুল করেছি। বেঁচে থাকলে আর কখনো এমন কাজ করব না। আমাদের বাঁচান।”

গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিরা দাবি করেন, তারা ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা।

এদিকে রবিবার(১৪জুন) সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করায় কোনো সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। বিজিবি শূন্যরেখায় অবস্থানরত ৯ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও তিন দিন পেরিয়ে গেলেও বিএসএফ তাদের গ্রহণ করেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ছক্কু মিয়া বলেন, “তিন দিন ধরে দুই দেশের কেউই তাদের দায়িত্ব নিচ্ছে না। নারী ও শিশুসহ তারা চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন-রাত কাটাচ্ছে। মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।”

শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা মিয়া বলেন, “কোলের শিশুসহ মানুষগুলো খোলা আকাশের নিচে খুব কষ্টে আছে। গরমে শিশুরা কান্নাকাটি করছে। পর্যাপ্ত খাবার, পানি কিংবা টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। রাতে সাপ-বিচ্ছুর ভয়, মশার উপদ্রবও রয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে শিশুদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।”

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”


এই বিভাগের আরও খবর