সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা ও স্বস্তি ফেরাতে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, ছিনতাই ও মাদক প্রতিরোধে রাজধানী ঢাকাতে নজরদারি বাড়িয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর অংশ হিসেবে মহানগরীতে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
শুক্রবার (৮ মে) ডিএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।-খবর তোলপাড়।
ডিএমপি জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড অভিযান, নিয়মিত পুলিশি টহল, বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করতে মোট ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে শুধু মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ছিনতাই প্রতিরোধে ৭০০টি ক্যামেরা বসানো হবে। তিনি বলেন, এসব ক্যামেরা স্থাপিত হলে মহানগর আরও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সেখানে নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বসিলায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন করা হয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) এবং পেট্রোল ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ করছে। এসব অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধ দমনকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় ব্লক রেইড অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে চুরি, ছিনতাই প্রতিরোধ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় আরও ক্যামেরা স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে এবং এ জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ডিএমপি বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৭১০টি ক্যামেরা চালু রয়েছে। এছাড়া ল অ্যান্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কমিটির মাধ্যমে, বিশেষ করে গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির মালিকদের সংগঠনের সহযোগিতায় আরও প্রায় ১ হাজার ২০০টি ক্যামেরা স্থায়ীভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব ক্যামেরার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অপরাধ কমেছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বড় ধরনের জাতীয় দিবস বা অনুষ্ঠান ঘিরে অস্থায়ীভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। যেমন পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চের মতো আয়োজনে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যামেরা বসানো হয়। পহেলা বৈশাখে প্রায় পৌনে দুইশ ক্যামেরা অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
ডিসি নাসির উদ্দিন জানান, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এসব ক্যামেরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তা শনাক্ত করে মেরামত বা পরিবর্তনের মাধ্যমে সচল করা হয়।
তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে অপরাধ দমন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধী শনাক্তকরণ সহজ হয়েছে। পাশাপাশি যানজট নিরসনেও ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কার্যকর ভূমিকা রাখছে ডিএমপি।