Views: 7

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘ। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সংস্থাটির কার্যক্রম বিস্তৃত। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, শরণার্থী সংকট ও মানবিক বিপর্যয় অব্যাহত থাকায় এসব সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অংশ হিসেবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির ১৩৬তম সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় দেশটি। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক মিশনে কর্মকর্তা পাঠানোর মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার কাজে দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্যরা। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ চেয়ে আসছে ঢাকা।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, অভিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোতেও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি, মানবাধিকার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু সংকটের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জনের জন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা জরুরি।