• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

কুড়িগ্রামে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক, লাভ নিয়ে শঙ্কা

তোলপাড় প্রতিবেদক:
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

Views: 1

এম এ এটম:
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। নতুন আলু বাজারে তুলে বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই জমি প্রস্তুত করে রোপণ শুরু করেছেন। তবে বাজারে আলুর বর্তমান কম দাম এবং আগের বছরগুলোর লোকসানের অভিজ্ঞতা তাদের মনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। লাভের আশা কম থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে আগাম আলু উৎপাদনে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার(৫নভেম্বর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুধখাওয়া মন্ডলপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আলহাজ¦ মো. ফজলুল হক মন্ডল তার নিজস্ব ৩ একর জমিতে আগাম আলু চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগাম আলু রোপণের উপযোগী করতে এসব জমিতে স্বল্পমেয়াদি ব্র্যাকের মুক্তি-১ জাতের ধান চাষ করেছিলেন তিনি। ধান কাটার পরপরই জমিতে এস্টারিক্স জাতের আগাম আলু রোপণ শুরু করেছেন। কিষান-কিষানীরা মাঠে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি এস্টারিক্স ও এলুয়েট জাতের আলু চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

ফজলুল হক মন্ডল বলেন, ‘গত কয়েক বছর আলু চাষ করে হিমাগারে সংরক্ষণ করার পর বিক্রি করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই এবার আগাম আলু চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি. আলু ১০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে এবারে একর প্রতি আলু চাষ করতে ৮০থেকে ৯০হাজার টাকা খরচ হতে পারে। আশা করছি, আগামী ২০ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে আলু তুলে সরাসরি খোলাবাজারে বিক্রি করতে পারব। এতে নতুন আলুর চাহিদা কাজে লাগিয়ে লোকসান কিছুটা পুষে নেওয়া সম্ভব হবে। তাই ৩ একর জমিতে আগাম আলু চাষ করছি।’

একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.আবুল কাশেম (মগবর) ১৫ শতাংশ এবং মো. নজরুল ইসলাম মন্ডল ৬০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু চাষ করেছেন। এ ছাড়া বাজেমুজরাই গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ মাস্টার ৭৫ শতাংশ জমিতে আগাম আলু আবাদ করেছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, আগাম আলু বাজারে তুলতে পারলে ভোক্তাদের নতুন আলুর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু বর্তমানে আলুর বাজারদর নিম্নমুখী হওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচ মিটিয়ে শেষ পর্যন্ত কতটা লাভ থাকবে, সেটিই এখন তাদের বড় ভাবনা। তারপরও বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঝুঁকি নিয়েই চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা।

রাজারহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার রায় বলেন, কৃষকেরা যাতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পান, সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি আলু চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার(৫নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, চলতি মৌসুমে রাজারহাট উপজেলায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় প্রায় ১০হাজার হেক্টর কম। তাই এই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী অর্জিত হয় এ জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর