Views: 1

বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক, তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর রাজনৈতিক গুরুত্ববহ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন।
বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বাধীনতার ঘোষক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম।
আমি মনে করি, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা অর্জন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়ের অবদান ও ঘটনাপ্রবাহ নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ যে জাতি তার ইতিহাসকে ধারণ করতে পারে না, সেই জাতির ভবিষ্যৎ পথচলাও অনেক সময় দিকনির্দেশনাহীন হয়ে পড়ে।
৭ নভেম্বরের তাৎপর্য শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জাতীয় ঐক্য, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের অবদান
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর গণহত্যা শুরু করে। বাঙালি জাতি তখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে উঠতে থাকে। সেই সংকটময় সময়ে ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।
তাঁর কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল। একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা করেই দায়িত্ব শেষ করেননি; সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দেন এবং দেশকে শত্রুমুক্ত করার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির সম্মিলিত সংগ্রাম। এই সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ, সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ এবং দেশি-বিদেশি সহযোগিতা সবকিছুই আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই মহান ইতিহাসে শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদানও যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করতে হবে।
একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস কোনো দলীয় বিতর্কের বিষয় হতে পারে না। এটি আমাদের জাতীয় গৌরব, আত্মপরিচয় ও অস্তিত্বের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যেক বীরের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করাই হওয়া উচিত আমাদের অঙ্গীকার।
৭ নভেম্বর: জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক
তৎকালীন সরকারের ব্যর্থতায়, রাজনৈতিক শূন্যতা, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনায় দেশের দুর্ভিক্ষ, পরনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি সহ সার্বিক ব্যর্থতার কারণে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অসন্তোষ, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং ধারাবাহিক অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানে দেশের পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিদ্রোহ এবং সিপাহি-জনতার অংশগ্রহণে তিনি মুক্ত হন।
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনাকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দলটির দৃষ্টিতে এটি ছিল স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ইতিহাসের কোনো ঘটনাকে মূল্যায়ন করতে হলে তার সময়কাল, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী প্রভাব বিবেচনায় নিতে হয়। ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহও তার ব্যতিক্রম নয়। এই ঘটনার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের অবস্থানে উঠে আসেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশের গতিপথে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও বিএনপি প্রতিষ্ঠা
শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি প্রতিষ্ঠা। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার সূচনা করে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনকে সামনে রেখে তিনি এমন একটি রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, যেখানে বাংলাদেশের ভূখণ্ড, ইতিহাস, সংস্কৃতি, জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল জাতীয় ঐক্য ও আত্মনির্ভরতা। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি তার জনগণের মধ্যে নিহিত। জনগণের অংশগ্রহণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার মধ্য দিয়েই একটি রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক শক্তির বিকাশ ঘটে। পরবর্তী সময়ে দলটি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে।
শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া দলটির নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিএনপির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। এই দায়িত্ব কেবল রাজনৈতিক বিজয়ের বিষয় নয়; এটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার বড় দায়িত্ব।
উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়নের দর্শন
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শহীদ জিয়াউর রহমানের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে খাদ্যসংকট, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতায় তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন।
খাল খনন কর্মসূচি ছিল তাঁর সময়ের আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি। কৃষিতে সেচের সুবিধা বাড়ানো, পানি সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। কৃষক ও সাধারণ মানুষকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টাও ছিল তাঁর কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য দিক।
আজকের বাংলাদেশেও কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে, শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে হবে। শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মনির্ভর অর্থনীতির ভাবনা বর্তমান বাস্তবতায় নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। শহীদ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বহুমাত্রিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা বিকাশেও তাঁর উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রস্তাব ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালে ঢাকায় সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায়ও বাংলাদেশের জন্য এই নীতিগুলো সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা
একটি রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন রাষ্ট্রের স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং জাতীয় উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা। এই ধারণার ইতিবাচক দিক হচ্ছে বাংলাদেশের নিজস্ব পরিচয়, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের ঐক্যকে গুরুত্ব দেওয়া। আজকের দিনে এই চেতনা ধারণ করতে হলে রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সামনে এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বড় সুযোগ ও দায়িত্ব রয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে কার্যকর করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি নগর ও জনপদকে বাসযোগ্য করে তোলা, নাগরিক সেবা সহজ করা, জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলোও জাতীয় উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছায়।
ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় আমাদের অঙ্গীকার
শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে শহীদ হন। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করে। কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে যায়।
তাঁকে স্মরণ করার অর্থ শুধু অতীতের গৌরবগাথা তুলে ধরা নয়; বরং তাঁর জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য কাজ করা। দেশপ্রেমকে বাস্তব কর্মকাণ্ডে পরিণত করা, জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, আত্মনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা—এসবই হওয়া উচিত তাঁর স্মৃতির প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা।
৭ নভেম্বর আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জাতীয় ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে যথাযথ মর্যাদায় ধারণ করতে হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে উঠতে পারে।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচবে। যেখানে তরুণেরা কর্মসংস্থান, কৃষক তাঁর উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য, শ্রমিক তাঁর শ্রমের মর্যাদা, ব্যবসায়ী বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রীয় সেবার পাবেন।
শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের অঙ্গীকার হোক- স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদা রক্ষা, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং জনগণের কল্যাণে একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
৭ নভেম্বর শুধু ইতিহাস স্মরণের দিন নয়; এটি দেশপ্রেম, জাতীয় সংহতি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ার নতুন শপথের দিন। জাতীয় ঐক্যই হোক আমাদের শক্তি, জনগণের কল্যাণই হোক রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য।