Views: 0

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রবাস আয় পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—তিন মাসে দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের ৫.১ শতাংশ এসেছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।
এই সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ৯১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় রেমিট্যান্স বিতরণে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।-খবর তোলপাড়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন ২০২৬ সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১৫ হাজার ২২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৯১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এসেছে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে। অর্থাৎ দেশে আসা প্রতি ১০০ টাকা রেমিট্যান্সের মধ্যে প্রায় পাঁচ টাকা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ হয়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণের সবচেয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, তা শহরাঞ্চলের তুলনায় ১২.৯ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের বড় অংশ সরাসরি গ্রামের পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
ফলে দূরের ব্যাংক শাখায় গিয়ে টাকা তোলার প্রয়োজন কমছে এবং প্রবাস আয়ের অর্থ দ্রুত স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রবাহিত হচ্ছে।
দেশের ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্ত করতেও এজেন্ট ব্যাংকিং বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ৬২টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৩০টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা করছে। এসব ব্যাংকের ২০ হাজার ৫৯৭টি সক্রিয় আউটলেট রয়েছে, যা পরিচালনা করছেন ১৫ হাজার ৪২৩ জন এজেন্ট। মোট আউটলেটের ৮৫.৫ শতাংশই গ্রামীণ এলাকায়।
শহরাঞ্চলে রয়েছে মাত্র ১৪.৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানত হিসাব ছিল ২১ কোটি আট লাখ ৪৭ হাজার ৮৬৮টি। এর মধ্যে প্রায় ১২.৯ শতাংশ হিসাব এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা হয়েছে। তবে এসব হিসাবের আমানতের পরিমাণ মোট ব্যাংক আমানতের ২ শতাংশ। একই সময়ে মোট ব্যাংক ঋণ হিসাবের ১.৪ শতাংশ এবং মোট বকেয়া ঋণের ০.৭ শতাংশ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম দ্রুত বাড়ছে। এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে মোট দুই কোটি ছয় লাখ ৫০ হাজার ৩৮৯টি লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট পরিমাণ ছিল এক লাখ ৪৬ হাজার ১৮৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন ব্যাংকিং প্রয়োজন মেটাতেও এজেন্ট আউটলেটগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার পেছনে এর গ্রামীণ বিস্তারকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যাংকাররা। প্রচলিত ব্যাংক শাখা স্থাপনে তুলনামূলক বেশি অবকাঠামো ও পরিচালন ব্যয় প্রয়োজন হলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় বাজার, দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা দেওয়া সম্ভব। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ সহজেই রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারছে। একই সঙ্গে প্রবাস আয় দ্রুত স্থানীয় বাজারে ব্যয় হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নারীদের অংশগ্রহণ। জুন ২০২৬ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় থাকা মোট আমানত হিসাবের প্রায় ৪৯.৮ শতাংশ নারীদের নামে। অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আমানত হিসাবের প্রায় অর্ধেকই নারী গ্রাহকদের। একই সময়ে মোট এজেন্টের ১১.৪ শতাংশ ছিলেন নারী। এর ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে।