• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হস্তান্তরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ শিশুপার্ক ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের অভিযানে নগদ টাকাসহ ৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার এমপিদের নম্বর হ্যাক করে ৫০ হাজার টাকা দাবি, সংসদে সতর্ক করলেন চিফ হুইপ এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী উলিপুরে ২২৫ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত ও বিতরণ কুড়িগ্রামের উলিপুরে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে প্রাণ গেল ৭ বছরের শিশুর “নিরপরাধ বিডিআর সদস্য চাকরিচ্যুত হননি, পুনর্বহালের সুযোগ নেই” নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার কমিটিতে সভাপতি ফারুক হোসেন, সম্পাদক বেলাল ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছে না তারেক রহমান
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি

প্রধান প্রতিবেদক:
আপডেট: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

Views: 0

দুর্দিনের কাণ্ডারি যাচ্ছেন বঙ্গভবনে, বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই পেলেন বাংলাদেশরে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন। রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগে তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন।-খবর তোলপাড়।

দলটির সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন তুলে দেন তাঁর হাতে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দলের চেয়ারম্যানের হাত থেকে এই মনোনয়নপত্র নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেন দলটির নেতারা। গতকাল দুপুর ২টার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ইসিতে যান।

এরপর দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ড. আব্দুল মঈন খান ও সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন।

তাঁর জীবন ইতিহাস অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। কর্মজীবনে শিক্ষকতা পেশা থেকে এক পর্যায়ে সরকারি চাকরি ছেড়ে মির্জা ফখরুল বেছে নেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসবাসের সাধারণ জীবন। তিনি ছাত্রজীবনে ছিলেন ছাত্রনেতা, কর্মজীবনে ছিলেন শিক্ষক এবং রাজনৈতিক জীবনে হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয় রাজনীতিবিদ। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা একটু ব্যতিক্রম। শিক্ষকতা পেশায় কয়েক বছর কাটিয়ে রাজনীতি জীবনে পদার্পণ কর্মী হিসেবে।

সেখান থেকে নেতা, তারপর পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য-মন্ত্রী এবং শেষে এখন দেশের রাষ্ট্রপতির আসনে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল। দুর্দিনের এই কাণ্ডারির একজন ‘সজ্জন রাজনীতিবিদ’ হিসেবে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বিএনপির এই মনোনয়ন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়নপ্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজকে (গতকাল) সচিবালয়ে স্থায়ী কমিটির কোনো বৈঠক ছিল না। ওটি স্থায়ী কমিটির বৈঠক করার মতো যথাযথ স্থানও না। তারেক রহমান যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান, উনাকে আমরা আগেই স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। আজকে (গতকাল) উনি শুধু আমাদের ডেকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দিয়েছেন।’

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য পদে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এই নিয়ে দল ও সরকারে তৈরি হয়েছে নানা সমীকরণ। রাষ্ট্রপতি পদ চূড়ান্ত হওয়ার পরই এসব পদে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কে হচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এটার জন্য অপেক্ষা করুন, পরে জানানো হবে।’

একজন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : প্রাইমারি থেকে কৃতী ছাত্র ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন মির্জা ফখরুল। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবনে পড়ালেখার পাশাপাশি রাজনীতির পাঠশালায় যুক্ত হন তিনি। মেধাবী ছাত্রের পাশাপাশি ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বও দিয়েছেন। শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি। ছিলেন এসএম হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকও। শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কর্মজীবনে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। এরপর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পুরোদমে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জিতে হন চেয়ারম্যান।

মির্জা ফখরুলের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী এলাকায়। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন এবং মা মির্জা ফাতেমা আমিন। জাতীয় রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতেখড়ি আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাপে। সেখান থেকে বিএনপিতে যোগদান। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব ছিলেন মির্জা ফখরুল। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি, পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে উঠে আসেন তিনি। ২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। এরপর ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলটির মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি। সেই থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে আসার আগে মির্জা ফখরুল দলটির কৃষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

রাজনীতির মাঠে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ যাত্রা পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। বিশেষ করে এক-এগারোর পটপরিবর্তন থেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টায় দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি।

স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের শাসনের সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন। এরপর অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে তারেক রহমান লন্ডন চলে যান। সেখান থেকেই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তবে দেশে থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তারেক রহমানের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তাঁকে ছয়বার কারাগারেও যেতে হয়েছে।

দলের শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটকালে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন দৃশ্যত মূল নেতৃত্বে। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে কৃষি এবং বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তারেক রহমানের সরকারে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসনের পাশের আসনটি মির্জা ফখরুলের। বিএনপির প্রবীণ নেতারা মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির দুর্দিনে যেভাবে দলকে আগলিয়ে রেখেছেন, দলের পতাকাকে উড্ডীন রেখেছেন, তাঁকে সম্মান দেওয়া উচিত।

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ এবং বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হলেও তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে সারা দেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি মহাসচিব সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

সচিবালয়ে কোনো বৈঠক হয়নি : বিএনপির প্রার্থিতার বিষয়ে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক সম্পর্কে জামায়াতের সমালোচনার জবাব দেন বিএনপি নেতারা। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সচিবালয়ে কোনো বৈঠক হয়নি। দলীয় চেয়ারম্যানকে আমরা আগেই স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। আজকে (গতকাল) উনি শুধু আমাদের ডেকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর হাতে মনোনয়ন তুলে দিয়েছেন।’

এ ছাড়া জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন দল থেকে। দলের মিটিং যেখানে হয়েছে, সেটা কোনো মিটিং নয়, যেটা হয়েছে আমরা আলোচনা করেছি। আলোচনা বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় হতে পারে।’

একই বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘এটা স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছিল না। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আগেই দলীয় চেয়ারম্যানকে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর