Views: 0

পিএম সৈকত:
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে চলতি এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় ৩ হাজার ২২৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে পাশ করেছে ১ হাজার ২৭৫ জন। ফেল করেছে ১ হাজার ৯৫১ জন। পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭১ জন।
এদিকে সোমবার(১০ আগষ্ট) সকালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ বোর্ডের অধীনে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থীই পাশ করতে পারে নি।
ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শেষ সময়ে রেজিস্ট্রেশন ও বিলম্ব ফি এবং শিক্ষক সংকটকে দায়ি করছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
জানা গেছে, শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ছিনাই ইউনিয়ন অবস্থিত ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়।
এরমধ্যে তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন, ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকলেই অকৃতকার্য হয়।
সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার রাজারহাট উপজেলা থেকে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতভাগ ফেল করে। এরমধ্যে তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২জন ফেল করে। এই বিদ্যালয়ে মোট ১১৫জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯১সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নিম্ন মাধ্যমিক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয় ২০০১সালে। পাশর্^বর্তী ব্রাহ্মণপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নিম্ন হিসেবে এমপিওভুক্ত হয় ২০২২সালে। এই বিদ্যালয় থেকে ৪জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকলেই অকৃতকার্য হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম জানান, বিদ্যালয়টি নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময়ে অনুমতি পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী চলে যায়। মাত্র ৪জন শিক্ষার্থীকে আমরা ফরম ফিলাপ করাতে পারি। আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষক ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এবারে ৪জন শিক্ষার্থী সব পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করলেও শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিষয়ে ফেল করে।
এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব জানায়, আমরা প্রস্ততি নেয়ার সময় কম পেয়েছি। শিক্ষক ছিলনা। শেষ দিকে তিনজন শিক্ষক নিয়োগ পান। তাদের চেষ্টায় আমরা ভাল ফলাফল করলেও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক না থাকায় সবাই ওই সাবজেক্টে ফেল করি।
এদিকে তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (কৃষি) দেবপ্রসাদ রায় জানান, আমাদের বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক হিসেবে এমপিওভুক্ত। এখনও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। ২০২৪ সালে আমরা ৯ম শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমতি পাই। শেষ সময়ে বিলম্ব ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। আমাদের বিদ্যালয়ে ১২জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৯জন ইংরেজী সাবজেক্টে ফেল করেছে। আমরা আশা করছি সামনের বছর ভাল ফলাফল করবো।
রাজারহাট উপজেলা শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুল হাসান জানান, যে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফল বিপর্যয় হয়েছে, প্রতিষ্ঠান দু’টি মাধ্যমিক পর্যায়ে ননএমপিও প্রতিষ্ঠান। এবারেই প্রথম এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেয়েছে। সরজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।#