Views: 1

টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে টেস্টে দ্বিশতকের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।-খবর তোলপাড়।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব ছিল মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের। এবার সেই অভিজাত তালিকায় যুক্ত হলো হৃদয়ের নাম।
প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। সাত উইকেট হারানোর পর সাদমান ইসলামের চোটের কারণে কার্যত সীমিত ব্যাটিং শক্তি নিয়েই লড়াই চালিয়ে যেতে হয় বাংলাদেশকে।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে একপ্রান্ত আগলে রেখে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখান হৃদয়। পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী কখনো ধৈর্যশীল, আবার কখনো আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। ৩০৪ বলের দুর্দান্ত ইনিংসে ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের প্রথম টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
হৃদয়ের এই ইনিংসে ভেঙেছে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও। এর আগে অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল মুমিনুল হকের ১৮১ রান। হৃদয় প্রথম সেঞ্চুরিতেই ২০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।
শুধু জাতীয় রেকর্ডই নয়, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও নতুন ইতিহাস গড়েছেন হৃদয়। এই মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে কোনো ব্যাটার ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারেননি। মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রান এবং শ্রীলঙ্কার কামিন্দু মেন্ডিসের ১৬৪ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। হৃদয়ের দ্বিশতকে সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
ব্যক্তিগত মাইলফলক, জাতীয় রেকর্ড আর সিলেটের মাঠে প্রথম দ্বিশতক সব মিলিয়ে স্মরণীয় এক ইনিংস উপহার দিলেন তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারেও বিশেষ এক অধ্যায় যোগ করলেন এই তরুণ ব্যাটার।