• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা: এমপি গাজী নজরুলের ৪ ও প্রথম স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড জ্বালানির দাম বাড়তেই বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি রংপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কুড়িগ্রাম-৩ আসনে সংরক্ষিত সংসদ সদস্যের বিশেষ প্রতিনিধি তারিক আবুল আলা চৌধুরী ৩ বছরেও চালু হয়নি পাঙ্গাহাটে ২কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সবজীর মার্কেট অপ্রতিম হত্যার দায় স্বীকার করে ৩ আসামির জবানবন্দি দুপুরে স্ত্রীর সঙ্গে খাবার খেয়েছে গাজী নজরুল, সন্ধ্যায় মৃত্যু রাফিনিয়ার টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকে জয় পেলো বার্সেলোনা পুরুষদেরও পিরিয়ড চান শ্রুতি হাসান যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিলো ইরান, না মানলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর হবে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

প্রধান প্রতিবেদক:
আপডেট: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

Views: 2

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাসও তুলে ধরবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।-খবর তোলপাড়।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে, এই জাদুঘর কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার জায়গা হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। তাঁর ভাষায়, “এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।”

জাদুঘর প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো বয়ান ইতিহাসের প্রতি মানুষের বিশ্বাস দুর্বল করে এবং ভবিষ্যতে বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি দেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নিরপেক্ষ ইতিহাস সংরক্ষণ করা জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মানুষ যেমন ভুলে যায়নি, একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও জনগণ কখনো ভুলবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বুধবারের দিনটি একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিগত ১৭ বছর এবং জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন কিংবা গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের স্মৃতি ধরে রাখতে নিজ নিজ এলাকায় উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম তাঁদের নামে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন ও নির্যাতনকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। সেই সময়ের নির্মমতা, গণআন্দোলনের ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, ফ্যাসিবাদী আমলে নিহত ও আহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা দিতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সব অন্যায়ের বিচার করা হবে।

বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কেউ কেউ নিজেদের অজান্তেই পলাতক স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ তৈরি করছে কি না, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

দেশ পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ৩১ দফার পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

এর আগে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনের সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গণআন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নির্যাতনের বিভিন্ন তথ্য ও উপকরণ দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, বিভিন্ন নিদর্শন ও দলিলও পরিদর্শন করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন দিক সংরক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ধারাবাহিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যেই জাদুঘরটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখানে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর