Views: 5

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তুরাগ নদ থেকে তার লাশ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার পর তথ্যের ব্যাপক গরমিল পাওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। -খবর তোলপাড়।
আটকের আগে দীপ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, ঘটনার রাতে (মঙ্গলবার) একসঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া শেষে তারা দুজনে আলাদা পথে চলে যান। তবে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি তাঁর বক্তব্য পরিবর্তন করেন। নতুন বয়ানে দীপ দাবি করেছেন, মাজার বস্তি এলাকায় তারা যখন কথা বলছিলেন, তখন পুলিশ ইউনিফর্ম পরা কিছু লোক (বা মাদক ব্যবসায়ী) তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং দীপ নিজে পালিয়ে আসেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান। তিনি বলেন, ‘দ্বীপ জানিয়েছেন তুরাগ নদে অন্ধকারে দুজনকে দেখে পুলিশ মনে করে দৌড় দেন তারা। এরপর তাহসিফকে হারিয়ে ফেলেন। তাদের কেউ ধাওয়া দেয়নি।’ পিবিআই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘দ্বীপ একেক সময় একেক কথা বলছেন। তার কথাগুলো যাচাই করা হবে।’
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে মাজার বস্তির হোন্ডা গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। দ্বীপ নিশ্চিত করেন মোটরসাইকেলটি তাহসিফের ছিল। এরপর দ্বীপকে নিয়ে টঙ্গী সংলগ্ন তুরাগ নদেও অভিযান চালানো হয়।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, দীপের সবশেষ অবস্থান মাজার বস্তিতে হওয়ায় তাকে হেফাজতে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ জানান- রাজধানীর উত্তরখান নয় তারা মাজার বস্তিতে এসেছিলেন। এরপর মোটরসাইকেল পার্ক করে যান তুরাগ নদের কিনারায়। পরবর্তীতে সেখানে তাহসিফকে রেখে দ্বীপ চলে যান বাসায়।
দীপের দেয়া তথ্যে পিবিআইয়ের ধারণা, টঙ্গীর মাজার বস্তির তুরাগ নদের পাড়েই তাহসিফের মৃত্যু হতে পারে। তারা কেন সেখানে গিয়েছিলেন, সেটিই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজের একদিন পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে উত্তরখানের রাজবাড়ী সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা শেষ করে বাসায় ফেরেন তাহসিফ। কিছু সময় পর দ্বীপ নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তিনি আবার বাসা থেকে বের হন। এরপর ২৮ অক্টোবর ‘আম্মু আমি আসছি’ লিখে শেষ একটি খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
নৌ পুলিশের তৈরি সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিহতের খালাতো ভাই জহির হাসান শনাক্ত করেন। আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার কে এম তাহসিফের কপাল স্বাভাবিক এবং মুখমণ্ডল গোলাকার ছিল। মুখ ও চোখ বন্ধ থাকলেও দেহে ছোট কালো দাড়ি-গোঁফ ছিল এবং হাত দুটি মাথার সামনের দিকে বাঁকা অবস্থায় পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তাহসিফের নাক দিয়ে রক্ত বের হলেও শরীরের অন্য কোথাও কোনো আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন মেলেনি। শরীরের সব অঙ্গ স্বাভাবিক এবং হাতের মুষ্টি খোলা থাকলেও পেট ফোলা ছিল।