• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে ওঠে পৃথিবী?

তোলপাড় প্রতিবেদক:
আপডেট: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

Views: 2

প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর পৃথিবীতে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ছন্দময় কম্পন। এতটাই সূক্ষ্ম এই কম্পন যে মানুষ তা অনুভব করতে পারে না। তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সংবেদনশীল সিসমোমিটারে নিয়মিত এই সংকেত ধরা পড়ছে। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা এই রহস্যময় স্পন্দনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। -খবর তোলপাড়।

ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী জ্যাক অলিভার প্রথম এই অস্বাভাবিক কম্পন লক্ষ্য করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের সিসমোমিটারে নিয়মিত বিরতিতে একই ধরনের সংকেত ধরা পড়ছিল। পরে ধারণা করা হয়, এর উৎস নিরক্ষীয় আটলান্টিক মহাসাগরের কোনো একটি এলাকায়। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কম্পনের তীব্রতাও বাড়তে দেখা যায়।

তবে সে সময় প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে গবেষণা খুব বেশি এগোয়নি। ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের গবেষকেরা ডিজিটাল সিসমিক তথ্য বিশ্লেষণের সময় আবারও এই সংকেত শনাক্ত করেন।

গবেষক মাইক রিটজওলার জানান, তারা অস্বাভাবিক, ধারাবাহিক ও দীর্ঘস্থায়ী একটি সংকেত দেখতে পান। পরবর্তী গবেষণায় এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী গিনি উপসাগরকে চিহ্নিত করা হয়।

এই রহস্যময় কম্পনের কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত কয়েকটি সম্ভাব্য তত্ত্ব দিয়েছেন। তবে কোনো তত্ত্বই এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, সমুদ্রের শক্তিশালী ঢেউ মহাসাগরের তলদেশের মহীসোপানে আঘাত করার ফলে এই কম্পন তৈরি হতে পারে। ঢেউয়ের শক্তি সমুদ্রতলদেশে ছড়িয়ে পড়ে নিয়মিত ভূকম্পনসদৃশ সংকেত তৈরি করতে পারে।

আরেকটি তত্ত্বে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ২০১৩ সালে চীনা বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় গিনি উপসাগরের বাইট অব বনি অঞ্চলে সাও তোমে দ্বীপের কাছাকাছি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের কথা বলা হয়। সম্ভাব্য উৎসস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এই তত্ত্বও বিজ্ঞানীদের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে।

দশকের পর দশক গবেষণার পরও প্রতি ২৬ সেকেন্ডে তৈরি হওয়া এই রহস্যময় কম্পনের কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়নি।


এই বিভাগের আরও খবর