• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

১ নভেম্বর থেকে অনুমতি মেলেনি, পিছিয়ে যাচ্ছে পর্যটকদের সেন্টমার্টিন যাত্রা

তোলপাড় প্রতিবেদক:
আপডেট: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

Views: 1

১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত দিনে তা আর হচ্ছে না। পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় ভ্রমণ কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে। জাহাজমালিকেরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ বা ৬ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।-খবর সংবাদদাতা,কক্সবাজার।

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে পর্যটকদের নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করে। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। পুরো পথ পাড়ি দিতে হয় বঙ্গোপসাগর দিয়ে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এ সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন।

গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্তগুলো বহাল রাখা হয়। এতে নভেম্বরে দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার নিয়ম এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

এ নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলে ২৭ অক্টোবর নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ দেয়া হয়।

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম জানান, জাহাজ চলাচল শুরু করতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের পাশাপাশি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে এখনো এসব অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যে সফটওয়্যার চালুর কথা, সেটিও প্রস্তুত হয়নি।
এ কারণে ১ নভেম্বর জাহাজ চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ৫ বা ৬ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত হচ্ছে—এমন ঘোষণায় দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু পর্যটকবাহী জাহাজের অনুমোদন না পাওয়ায় ১ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। কেউ বলছেন, ৫ থেকে ৭ নভেম্বর; আবার কেউ বলছেন, ১৫ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও জাহাজগুলোর ফিটনেস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট ছাড়া টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ কিংবা উখিয়া থেকে নৌযানে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ নেই। একমাত্র সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে পর্যটকরা সেখানে যেতে পারবেন।

গত বছর পর্যটকবাহী একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এবার যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাহাজগুলোর ফিটনেস যাচাই করছে। সবকিছু পরীক্ষা করে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করতে শনিবার বেলা ১১টায় জাহাজমালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর