• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন কুড়িগ্রাম থানা, নারী বিভাগে নাগেশ্বরী থানা সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক নয়, প্র্যাকটিসও বন্ধ শিশু নিখোঁজের দীর্ঘ তালিকা, স্বজনদের অসহায় কান্নায় উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ চিলমারীতে ফের “ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের ধস, আতঙ্ক এলাকাবাসী সারের দাবিতে উলিপুরে ফের কৃষকদের সড়ক অবরোধ পাঁচ দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে আসছে ত্রাণ মন্ত্রী কুড়িগ্রামে নারীর মর্যাদা ও জরুরী সুরক্ষায় ডিগনিটি কিট বিতরণ কুড়িগ্রামে সার বিতর্কে কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে স্ট্যান্ড রিলিজ প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা কুড়িগ্রামে কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

রংপুর অঞ্চলের রাজবংশী ভাষা সংরক্ষণে তৈরি হচ্ছে অভিধান

প্রধান প্রতিবেদক:
আপডেট: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

Views: 7

পিএম সৈকত:

রংপুর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী রাজবংশী ভাষা শিক্ষিত সমাজের ব্যবহারে ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ প্রায় ২ কোটি মানুষের মুখের ভাষা হিসেবে এখনও এই ভাষা জীবন্ত রয়েছে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের মাঝে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষিতদের একটি অংশ রাজবংশী ভাষাকে অবহেলা করে “মূর্খদের ভাষা” হিসেবে দেখলেও, বাস্তবে এই ভাষায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠী তাদের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি ও অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়ে আসছে। গান, কবিতা, গল্প ও প্রবাদ-প্রবচনের মাধ্যমে রাজবংশী ভাষা বহন করছে সমৃদ্ধ লোকঐতিহ্য।

ইতিহাস বিশ্লেষণে জানা যায়, রাজবংশী ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-আর্য ভাষাগোষ্ঠীর মাগধী প্রাকৃত থেকে। পরবর্তীতে এটি বঙ্গ-কামরূপী অপভ্রংশে রূপান্তরিত হয়ে স্বতন্ত্র ভাষাগত রূপ লাভ করে। ফলে ভাষাটিকে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাজবংশী ভাষার লোকসাহিত্যে রয়েছে নানা ধারা—ভাওয়াইয়া গান, কুষাণ গান, তুক্ষা গান, মেছেনি গান, বিষহরী গান, চোর-চুন্নী গান, উত্তরবঙ্গের বিয়ের গান, লাহাংকারী গান, মারাঘুরা/দাইঘুরা/পালাটিয়া গান এবং ধামের গান। এসব গানে উঠে আসে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, সুখ-দুঃখ ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।

ভাষাটির স্বকীয়তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে “রাজবংশী ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পরিষদ”। সংগঠনটির উদ্যোগে বর্তমানে প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘রংপুরী রাজবংশী ভাষার অভিধান’।

অভিধানটির প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের সোনাবর গ্রামের লেখক ও গীতিকার প্রণব কুমার সত্যব্রত। সহযোগী সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ভাওয়াইয়া গীতিকার ও শিল্পী কল্যান চন্দ্র শীল, প্রভাত রঞ্জন রায় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের একটি শিক্ষার্থী দল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিধানটি প্রকাশিত হলে রাজবংশী ভাষার খাঁটি দেশীয় শব্দসমূহ সংরক্ষণ, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। একইসঙ্গে ভাষাটির মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর