• মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

লিবিয়ায় জিম্মি কুমিল্লার ৬ যুবক, দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ইউরোপের দেশ ইতালিতে পৌঁছানোর প্রলোভনে পড়ে লিবিয়ায় গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়েছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ছয় যুবক। জিম্মি তরুণদের পরিবারের কাছে এখন দাবি করা হচ্ছে মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ।

এদিকে দাবিকৃত অর্থ না পাওয়ায় জিম্মি যুবকদের ওপর প্রতিনিয়ত চালানো হচ্ছে অমানুষিক নির্যাতন। এ পরিস্থিতিতে স্বজনদের অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।-খবর সংবাদদাতা, কুমিল্লা।

দালালচক্রের হাতে জিম্মি হওয়া যুবকরা হলেন—মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মানিকুল ইসলাম (২০), হারুন রশিদের ছেলে মো. সোহেল (২৭), ছবু মিয়ার ছেলে তাজ মোহাম্মদ (২৫), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২০) এবং লক্ষণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভালো উপার্জন ও উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন।
কিন্তু লিবিয়া পৌঁছানোর পরই স্থানীয় ও দেশীয় মানব পাচারকারী চক্রের হাতে তারা জিম্মি হয়ে পড়েন।

ভুক্তভোগী মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান জানান, তার নিজ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে নিজের ছেলে মানিকুলকে ইতালি নেওয়ার কথা পাকাপোক্ত হয়। সেজন্য প্রায় ৯ মাস আগে মানিকের ভাই সামছুল আলমকে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মানিকুলকে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া নেওয়া হলেও সেখানে তাকে একটি দালালচক্রের হাতে তুলে দেন মানিক।
বর্তমানে তার ছেলে ওই চক্রের হাতে জিম্মি এবং মুক্তিপণের জন্য তার ওপর তীব্র নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

একই অভিযোগ করেন লক্ষণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসানের বাবা শাহআলম। তিনি জানান, প্রায় ৮ মাস আগে একই দালাল সামছুল আলমের মাধ্যমে নগদ ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে লিবিয়া পাঠান। বর্তমানে তার ছেলেও লিবিয়ায় দালালের খপ্পরে পড়ে মুক্তিপণের দাবিতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি সর্বমোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে।
টাকা দিতে দেরি হওয়ায় প্রতিনিয়ত তাদের শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে এবং সেই নির্যাতনের অডিও-ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এদিকে, যুবকদের জিম্মি ও নির্যাতনের ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গত ১০-১২ দিন ধরে অভিযুক্ত দালাল সামছুল আলমসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছেন। লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল দালাল মানিকও এখন ভুক্তভোগী পরিবারের ফোন ধরছেন না। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সন্তানদের জীবিত ফিরে পেতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীদের মা-বাবারা।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, ‘অবৈধ পথে কে, কিভাবে, কোন দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়েছেন—এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা লিখিত অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর