পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, তার দল হারেনি। মঙ্গলবার কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।”-খবর তোলপাড়।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। টানা ১৫ বছরের শাসনের পর এই ফলকে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা মানতে নারাজ। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং ফলাফল প্রকৃত জনগণের মতামত প্রতিফলিত করছে না।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “কমিশনের সাহায্যে ১০০টিরও বেশি আসন লুট করা হয়েছে। ভোটের আগে থেকেই আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার শুরু হয়েছিল, একের পর এক জায়গায় রেইড চালানো হয়েছে।” মমতা আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কিছু অংশ পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এটা শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের চেষ্টা হয়েছে।”
সাংবাদিক সম্মেলনে তার পাশে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গঠন করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা হবে।
এদিকে বিজেপি শিবিরে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আগামী ৯ মে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীতে নতুন সরকার শপথ নিতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিধানসভায় বিজেপি সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে যেমন ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে, তেমনি শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনাও।
অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বলেছেন, তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না। বরং রাস্তায় নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার কথায়, “আমি ফ্রি বার্ড। সাধারণ মানুষের পাশে থাকব, রাস্তাতেই থাকব।”
রাজনৈতিক অস্থিরতার এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো ও কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, বিবিসি