ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার ‘অবৈধ’ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া এক বক্তৃতায় এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি।-খবর তোলপাড়।
বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ১০ হাজার ‘অবৈধ’ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজ্যের ১২টি আটক কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন অবস্থান করছেন। তবে তিনি দাবি করেন, ভারতের প্রকৃত নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। নাগরিকদের ধর্ম, সম্প্রদায় বা রাজনৈতিক পরিচয় এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাদের কারাগারে রেখে রাষ্ট্রীয় অর্থে খাবার ও চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার পরিবর্তে সেই অর্থ নারী কল্যাণ ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অনেক বাংলাদেশি অভিবাসী ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে হিলির হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে ফিরে গেছেন। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য এ পর্যন্ত ১৪২ দশমিক ৭৯ একর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার বাংলাদেশ থেকে আসা নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে।