• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ম্যানচেস্টার সিটি; শিরোপাও কেড়ে নেওয়া হতে পারে! হুথি হামলা প্রতিহত করতে সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ নৌকাডুবিতে নিহত -৪১ চিলমারীতে ফ্রেন্ডশীপের (FDIDP) প্রকল্পের এডভোকেসি সভা কুড়িগ্রামে “ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ধস, হুমকিতে প্রায় ১০গ্রামের মানুষ রৌমারীতে স্কুল ঘেঁষে ইট ভাটা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা রাজারহাটে সমাজসেবা কার্যালয় ও শিশু সদন পরিদর্শন করেন সমাজসেবার উপপরিচালক বিশ্বমঞ্চে বিরল ইতিহাস বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক শিক্ষার্থীর জন্য ১৯ শিক্ষক-কর্মচারী! আবাসিক এলাকায় মিঠু বিড়ির কারখানা, গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ম্যানচেস্টার সিটি; শিরোপাও কেড়ে নেওয়া হতে পারে!

প্রধান প্রতিবেদক:
আপডেট: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

Views: 0

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গোল ডটকম জানিয়েছে, ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই স্বাধীন কমিশন ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তবে এখনো শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি।-খবর তোলপাড়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো দীর্ঘদিনের আর্থিক তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগের মধ্যে ছিল সঠিক আর্থিক তথ্য না দেওয়া, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না করা এবং প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা না করার বিষয়।

দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে সাংবাদিক ডেভিড অর্নস্টেইন এবং মামলাটির সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, স্বাধীন কমিশন ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টি বহাল রেখেছে। একটি অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটি দোষী সাব্যস্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শাস্তি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে আর্থিক জরিমানা ও পয়েন্ট কর্তনের মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে। আগের মৌসুমগুলোর ওপর শাস্তি কার্যকর হলে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ম্যানচেস্টার সিটি প্রতিবেদনটির বিষয়ে সরাসরি কোনো চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয়নি। দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্লাবের এক মুখপাত্র বলেন, প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার বাকি রয়েছে। এসব বিষয় কঠোর গোপনীয়তার আওতায় রয়েছে বলেও জানানো হয়।

ক্লাবটি আরও জানায়, এ বিষয়ে তাদের অবস্থান ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তখন ম্যানচেস্টার সিটি অভিযোগগুলো নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছিল।

গোল ডটকমের প্রতিবেদনে দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলোর একটি বড় অংশ ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত নয় মৌসুমের আর্থিক তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অভিযোগের মধ্যে ছিল সঠিক আর্থিক তথ্য না দেওয়া। সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনিকে ২০০৯-১০ থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত দেওয়া পারিশ্রমিকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ার অভিযোগও ছিল। একইভাবে ২০১০-১১ থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুম পর্যন্ত খেলোয়াড়দের দেওয়া অর্থের বিস্তারিত তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা না করার অভিযোগও ছিল।

গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি শুরু হওয়ার পেছনে ২০১৮ সালের শেষ দিকে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডের স্পিগেলে প্রকাশিত ফাঁস হওয়া নথির ভূমিকা ছিল। ওই নথি প্রকাশের পর ম্যানচেস্টার সিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তদন্তের আওতায় থাকা সময়কাল ছিল ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল। এ সময় ক্লাবের আর্থিক তথ্য এবং কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের অর্থ প্রদানের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের অভিযোগ ছিল।

গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের লাভ-ক্ষতি ও আর্থিক স্থায়িত্বের নিয়ম এবং উয়েফার আর্থিক স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগও ছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালে শেখ মনসুরের আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ম্যানচেস্টার সিটির মালিকানা নেওয়ার পর ক্লাবটির অবস্থানে বড় পরিবর্তন আসে। তদন্তের আওতাধীন সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও একাধিক ঘরোয়া কাপ জিতেছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গোল ডটকমের প্রতিবেদনে ম্যানচেস্টার সিটির আগের একটি উয়েফা মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে উয়েফা আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ক্লাবটিকে দুই বছরের ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা এবং ২৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা করেছিল।

তবে ওই নিষেধাজ্ঞা পরে ক্রীড়া সালিস আদালতে আপিলের মাধ্যমে বাতিল হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু প্রমাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উয়েফার ওই মামলার তুলনায় প্রিমিয়ার লিগের নিয়মে একই ধরনের সময়সীমার বাধা নেই।

ম্যানচেস্টার সিটি শুরু থেকেই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে। গোল ডটকমের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ক্লাবের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়াকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে।

ক্লাবের বক্তব্যে বলা হয়েছে, তারা আট বছর ধরে যথাযথ প্রক্রিয়াকে সম্মান করে এসেছে এবং প্রিমিয়ার লিগের বোর্ড ও নির্বাহীরা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করেছে।

এদিকে দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গোল ডটকম জানিয়েছে, ম্যানচেস্টার সিটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। তবে আপিলের বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

শাস্তির সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্যটি দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকাশিত তথ্য হিসেবে সামনে এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর