• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

উলিপুরে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ, প্রসূতি মায়ের মৃত্যু!

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
Oplus_131072

 

আব্দুল মালেক, উলিপুর:

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বেসরকারি থআধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটাল’ এ চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে নূরানী বেগম (৩৫) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৭টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নিহত নূরানী বেগম উপজেলার বজরা ইউনিয়নের খামার দামারহাট এলাকার মশিউর রহমানের স্ত্রী। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতা ও ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতির জরায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে গভীর রাতে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, প্রসব বেদনা উঠলে নূরানী বেগমকে উলিপুর ‘আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটালথ এ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

স্বজনদের দাবি, রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে। পরে বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্বজনরা দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আতা এলাহী সোহাগ ও ডা. নজরুল ইসলামকে দায়ী কর‌ছেন।

নিহতের ভাতিজা নুর আলম বলেন, আমরা যখন চাচিকে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যাই, তখন সেখানকার গাইনি চিকিৎসক বলছিলেন প্রেসার বেশি হওয়ায় এখন সিজার করা সম্ভব না। কিন্তু ক্লিনিকের লোকজন জোর করে সেখানে সিজার করায়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তবে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. আতা এলাহী সোহাগ বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রোগীকে অপারেশন করা হয়। রোগীর জরায়ু ফাটা ছিল এবং জরায়ুর নিচে ফুলে গিয়েছিল। ফলে রোগীর ব্লাডিং শুরু হয়। এরপর রোগীর স্বজনরা রক্ত সরবরাহ করতে ব্যর্থ হন। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি বা ভুল চিকিৎসা হয়নি। যথাসময়ে রোগীকে রক্ত সরবরাহ করা গেলে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা ছিল।
এ বিষয়ে কুুড়িগ্রাম সি‌ভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস ব‌লেন, বিষয়‌টি জান‌তে পে‌রে‌ছি। এ বিষ‌য়ে তদন্ত ক‌রে প্রয়োজনীয় ব‌্যবস্থা নেওয়া হ‌বে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর