• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

তিস্তা পাড়ে বন্যার থাবা: পানিবন্দি শতাধিক পরিবার, কোরবানি ঈদ নিয়ে শঙ্কায় চরবাসী

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

পিএম সৈকত:

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে তিস্তা নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শতাধিক পরিবার। উঠতি ফসল বোরো ধান, চিনা বাদাম, মরিচ, শাক-সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হতাশা। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে নতুন করে উদ্বেগ-আতঙ্কে দিন কাটছে তিস্তা পাড়ের মানুষের।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৯ দশমিক ৩১ডিগ্রী সেলসিয়াস নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে বন্যার পানি ঢ়ুকে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিস্তার ওপাড়ের(পশ্চিম) চর ও নিম্নাঞ্চলগুলো।

ইতোমধ্যে চর গতিয়াসাম, মাঝের চর, চর বগুড়া পাড়া, চর খিতাবখাঁ, চর বিদ্যানন্দ, নামার চর ও নামভরটসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া চাকিরপশার বিল, দেউলার বিল, সরলার বিল, চতলা বিল, নাখেন্দা বিল, ইটাকুড়ি বিল ও বড়গিলা বিল পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকাই এখন একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর খিতাবখাঁ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারেক বলেন, গত তিন দিন ধরে তিস্তার পানি বাড়ছেই। শনিবার রাতেই বাড়িতে পানি উঠে গেছে। রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। খাওয়া-দাওয়াও কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম ও রশিদুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে তাদের প্রায় দুই একর জমির বাদাম ও উঠতি বোরো ধান তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত জেলার অন্তত ১৫ হেক্টর জমির বোরো ধান, চিনা বাদাম ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার(২৬মে) ভোর থেকে পানি আরও বাড়তে থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামছুন্নাহার সাথী বলেন, চৈত্র মাস থেকেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি দ্রুত না কমলে ব্যাপক কৃষি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা তাসনিম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে চরাঞ্চলের উঠতি পাকা ধানসহ মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়বে। ফলে আসন্ন কোরবানি ঈদ ঘিরে আনন্দের বদলে উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর