Views: 5

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এটি আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে হতে পারে। তবে এর প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।-খবর তোলপাড়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়া এই আবহাওয়াব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম হতে পারে ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত, যার অর্থ সমুদ্র। তবে আরব সাগরে সৃষ্ট অন্য কোনো নিম্নচাপ আগে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে নামকরণের ক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের মতে, নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ঝড়টি সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা তুলনামূলক কম হলেও এর গতিপথ পরিবর্তিত হলে পরিস্থিতিরও পরিবর্তন হতে পারে। তাই দেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত ভাবার সুযোগ নেই।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। এরপর ২৯ অক্টোবর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আওতাধীন আঞ্চলিক ব্যবস্থায় বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করা হয়। এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ পর্যায়ক্রমে নাম প্রস্তাব করে। তালিকায় ‘অর্ণব’-এর পর ভারতের প্রস্তাবিত ‘মুরাসু’ নামটি রয়েছে, যার অর্থ ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কা।
তবে সম্ভাব্য ঝড়টির গতিপথ, তীব্রতা ও বাংলাদেশের ওপর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখা জরুরি।