• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাকরি যেমন একটি পেশা, খেলাধুলাও তেমনই একটি পেশা —দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী খাটুনির মজুরি’ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নেপালে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি: বাংলাদেশের শোক, সহায়তার আশ্বাস ৫ কারণে পুরুষদের শুক্রাণু সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সারা বাংলাদেশে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব শেখ হাসিনাসহ চার পলাতককে ফেরাতে কূটনৈতিক-আইনি প্রক্রিয়াধীন কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার এড়াতে ছাদ থেকে লাফ, আ.লীগ নেতা আহত কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্নপূরণ হলো না মেধাবী আকিমুনের কুড়িগ্রামে ৬০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪, নগদ ৮৩ হাজার টাকা জব্দ কুড়িগ্রামে ৩০ বছর পর উৎসব পরিবেশে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সারা বাংলাদেশে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

Views: 2

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর গঠিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের ৬৪ জেলার জন্য এ দায়িত্ব বণ্টন করে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।-খবর তোলপাড়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর গঠিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছে যে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে লেখা থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট সংগঠিত হয়েছে এবং এ সব লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। লুটপাটের অর্থের অন্য অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার তথা মন্ত্রিপরিষদ দেশের উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমের জন্য সমষ্টিগতভাবে জাতীয় সংসদ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতি নির্মূল নিশ্চিত করাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক জরুরি কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তার কর্তৃত্বে সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে। পাশাপাশি রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো ক্ষেত্রে এসব বিধান থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে বা তা মঞ্জুর করতে পারেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিষয়গুলো নিয়ে মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন মামলা নং ৩৫১২/২০০৩-এর রায়ের মর্মানুযায়ী, এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। তাই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা এবং রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুসরণ করে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে এসব দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন দায়িত্ব পেয়েছেন লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলার। আবদুল আউয়াল মিন্টুকে দেওয়া হয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্ব। নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা এবং খন্দকার আবদুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

এ ছাড়া আরিফুল হক চৌধুরীকে মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্ব। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ; সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারী বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিন ঢাকা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইমরান খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব পেয়েছেন। মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিনকে (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের কার্যপরিধিতে বলা হয়, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া; সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া; তারা প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ এবং পরামর্শ দিতে পারবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর