• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাবার ‘রক্তের’ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার মোজতবা খামেনির ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ, ৬ দিন ধরে বাড়িছাড়া ১০ পরিবার নড়াইলে এনসিপি’র আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে ২৬ প্রাণহানি, রয়েছে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে বর্ষার প্রভাব ডিমে, স্থিতিশীল মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম আর্জেন্টিনার সামনে আরেক ‘ভোজিনিয়া’ শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার কথা বলছেন !!! রাজারহাট ছাত্রদলের উদ্যোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে কলম-স্কেল-পানি বিতরণ তিস্তা নদীভাঙনের শোকাহত পরিবারের পাশে রাজারহাট উপজেলা প্রশাসন “হুইলচেয়ার খান পাওয়ায় খুব উপকার হইলো”
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ, ৬ দিন ধরে বাড়িছাড়া ১০ পরিবার

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

পিএম সৈকত:

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে রাজারহাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলার পর থেকে প্রাণনাশের আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি পরিবারের সদস্যরা টানা ছয় দিন ধরে বাড়িছাড়া রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৫জুলাই) দুপুরে উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য খালিদ মেম্বারের নেতৃত্বে কোরবান আলী, সেকেন্দার আলীসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় প্রবেশ করেন। হামলার আগে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার কথা বলে মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয়দের ঘটনাস্থলে যেতে নিষেধ করা হয়। এরপর বাহাদুর আলীর বাড়িসহ অন্তত ১০টি বসতবাড়িতে একযোগে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, হামলার সময় প্রাণভয়ে নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা নগদ প্রায় ২৬ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, ফ্রিজ, টেলিভিশন, টিউবওয়েল, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বসতঘর ও ঘরের আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, পুরো ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের প্রতিহত করা কিংবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। ফলে হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে নির্বেঘ্নে তান্ডব চালানোর সুযোগ পায়।

ক্ষতিগ্রস্ত বাহাদুর আলী বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল, কিন্তু হামলাকারীদের কেউ বাধা দেয়নি। আমাদের চোখের সামনে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। প্রায় ২৬ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে। হামলার পর থেকেই আমরা পরিবার নিয়ে বাড়িছাড়া। প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার (৭জুলাই) বাহাদুর আলী বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬২ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

হামলার ছয় দিন পরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ায় নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা এখনও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অন্যত্র অবস্থান করছেন।

শনিবার(১১জুলাই) এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, “বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন। মামলার পরদিন আসামিরা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। ঘটনার দিন একজন এসআই ও একজন পুলিশ সদস্য অন্য একটি মামলার তদন্তের কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। মূলত দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর