• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা: এমপি গাজী নজরুলের ৪ ও প্রথম স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড জ্বালানির দাম বাড়তেই বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি রংপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কুড়িগ্রাম-৩ আসনে সংরক্ষিত সংসদ সদস্যের বিশেষ প্রতিনিধি তারিক আবুল আলা চৌধুরী ৩ বছরেও চালু হয়নি পাঙ্গাহাটে ২কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সবজীর মার্কেট অপ্রতিম হত্যার দায় স্বীকার করে ৩ আসামির জবানবন্দি দুপুরে স্ত্রীর সঙ্গে খাবার খেয়েছে গাজী নজরুল, সন্ধ্যায় মৃত্যু রাফিনিয়ার টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকে জয় পেলো বার্সেলোনা পুরুষদেরও পিরিয়ড চান শ্রুতি হাসান যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিলো ইরান, না মানলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে ভুল রিপোর্টের অভিযোগ

প্রধান প্রতিবেদক:
আপডেট: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

Views: 1

অবৈধ্যভাবে গড়ে উঠেছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে ভুল রিপোর্টের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ গ্রামের সাগর হোসেনের ২৩ মাসের শিশু কন্যা আনাবিয়া জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে রক্তের পরিক্ষা করে প্লাটিনেট কাউন্ট করে ৮৯ হাজার এ মর্মে রিপোর্ট প্রদান করে। শিশুটির চিকিৎসায় ঝুঁকিপূর্ণ বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজশাহী অথবা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তির পরামর্শ দিয়ে রেফার্ট করে। সরকারি ভাবে নির্দেশ রয়েছে হাসপাতালের আশে পাশে কোন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকার নিয়ম নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজসে হাসপাতালের গেটের সামনে একাধিক অবৈধ্য ভাবে গড়ে উঠেছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার। -খবর সংবাদদাতা, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)।

উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ গ্রামের সাগর হোসেনের অভিযোগে জানা যায়, ২৩ মাসের শিশু কন্যা আনাবিয়া ৫দিনের জ্বর নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নাসরিন আক্তারের নিকট চিকিৎসা নেয়। শিশুর ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির জন্য পরামর্শক্রমে চিকিৎসা পত্র প্রদান করেন। স্থানীয় ডায়গনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরিক্ষায় রক্তের প্লাটিনেট কাউন্ট করে ১লাখ ৭৯ হাজার। শিশুটির অভিভাবক তাৎক্ষণিক ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সু-চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। চিকিৎসা চলমান থাকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের নির্দেশ ক্রমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে রক্তের পরিক্ষা করে প্লাটিনেট কাউন্ট করে ৮৯ হাজার এই মর্মে রিপোর্ট প্রদান করে। শিশুটির চিকিৎসায় ঝুঁকিপূর্ণ মর্মে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজশাহী অথবা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তির পরামর্শ দিয়ে রেফার্ট করে। শিশুটির অভিভাবক উক্ত রিপোর্ট সন্দেহজনক মনে করে স্থানীয় ডায়গনস্টিক সেন্টারে আবার রক্ত পরিক্ষা সম্পন্ন করে। পরিক্ষা শেষে রক্তের প্লাটিনেট কাউন্ট করে ১ লাখ ৮৫ হাজার। শিশুটিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কতর্ব্যরত চিকিৎসক ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে রক্তের পরিক্ষায় প্লাটিনেট কাউন্ট ৮৯ হাজার এ মর্মে রিপোর্ট দেখে সন্দেহ হয়। পূণরায় রক্ত পরিক্ষার নির্দেশ প্রদান করেন। রক্তের পরিক্ষা করে রক্তের প্লাটিনেট কাউন্ট হয় ১ লাখ ৯০ হাজার। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ল্যাবে রিপোর্ট প্রদান করে রোগী এবং তার পরিবারের লোকজন মানসিক বিপর্যস্ত করা হয়েছে। শিশুটির অভিভাবক ও এলাকাবাসী যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

ভেড়ামারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ডা. গাজী আশিক বাহার ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল গেটের সামনে বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলাউদ্দিন (৭৪) নামক ব্যক্তিকে সরবরাহকৃত “ঝবৎড়ষড়মরপধষ ঞবংঃ জবঢ়ড়ৎঃ” (চধঃরবহঃ ওউ-ইউঈ-১৯৩৩) -এ কোন উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন এম.বি.বি,এস চিকিৎসক এর স্বাক্ষর ও সিলমোহর ব্যতীত এবং মেডিকেল টেননোলজিস্ট (প্যাথলজি) এর দ্বারা স্বাক্ষর ও সিলমোহর ব্যতীত টেস্ট রিপোর্ট সরবরাহের অপরাধ করেছেন। উল্লিখিত টেস্ট এর জন্য প্রতিষ্ঠান টাকা নিলেও প্রতিশ্রুতি সেবা যথাযথভাবে সরবরাহ না করার অপরাধ করেছেন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ধারা ৪৫ লঙ্ঘনের অপরাধ করেন। বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে মালিককে জগলুর রহমান লিটন (৬২) ১৫,০০০/- হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন। বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টা’র অভ্যন্তরিন সরঞ্জামাদির বেহাল অবস্থা ও উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্তব্যরত কোন স্টাফ না থাকায় এবং লাইসেন্স এর নবায়ন না থাকায়, ভ্রাম্যমান আদালত আপতত উক্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা: শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে ভুল রিপোর্টের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখব। কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। ইতিপূর্বে অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শোকজ করা হয়।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে ভুল রিপোর্টের ব্যাপারটি প্রাথমিক ভাবে সর্তক করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫ জন ডাক্তারের মধ্যে বর্তমানে ৯ জন ডাক্তার রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর