Views: 0

পিআইডি, রংপুর :
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে মোগলহাটের পরিত্যক্ত স্থলবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। একই সঙ্গে তিস্তা, বিমানবন্দরসহ জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাটের পরিত্যক্ত মোঘলহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বন্দরকেন্দ্রিক যেসব অবকাঠামো আমাদের পক্ষ থেকে নির্মাণ করতে হবে, সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে আমরা সেসব কাজ হাতে নিতে পারব। আমাদের লক্ষ্য হলো যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ করা।’
তিনি বলেন, ‘শুধু ছোটখাটো প্রকল্প নিয়ে কাজ করলে হবে না। বড়ো বড়ো প্রকল্পের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয়, যাতে সাধারণ মানুষ তার সুফল পেতে পারে। এ ধরনের কাজ বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমরা এসব বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রীর আগামী ১৯ নভেম্বর লালমনিরহাট সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে একটি সামাজিক উদ্যোগ কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং স্থানীয় মানুষ কীভাবে এতে সম্পৃক্ত হয়েছেন, তা তিনি দেখতে আসছেন। এখানকার অভিজ্ঞতা তিনি দেশের অন্যান্য জায়গায় কাজে লাগাতে চান। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকার উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয় যে স্থানীয় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিশ্রম করে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়েছে’।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, ‘লালমনিরহাটের পরিত্যক্ত মোঘলহাট স্থলবন্দরটি আমরা যদি চালু করতে পারি, তাহলে পাথর, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য এই বন্দর দিয়ে পরিবহণ করা সম্ভব হবে। এতে অন্য বন্দর ব্যবহার করে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তার তুলনায় কম খরচে পণ্য আমাদের দেশে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আমাদের রপ্তানির সুযোগও বাড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যা কিছু হবে, তা দুই দেশের সম্মতি ও সমান স্বার্থের ভিত্তিতেই হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব দেওয়া হবে। তারাও বিষয়টি এগিয়ে নিতে কাজ করবেন, আমরাও আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করব। দুই পক্ষের সম্মতি পাওয়া গেলে কার্যক্রম শুরু করা হবে।’
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাঃ রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।