• রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

জেল পলাতক আসামী ও লুট হওয়া অস্ত্র বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক হুমকি

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

 

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলা পলাতক দুর্ধর্ষ আসামী ও লুট হওয়া অস্ত্র। এখনো উদ্ধার হয়নি বিগত ২০২৪ সালে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলায় লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের বড় অংশ। লুট হওয়া মোট অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩২৮টির এখনো হদিস মেলেনি। সন্ধান মেলেনি গোলাবারুদেরও বড় একটি অংশের। তাছাড়া ওই সময় দেশের কারাগারগুলো থেকে ২ হাজার ২৩২ বন্দি পালিয়ে যান। যার মধ্যে দুর্ধর্ষ অপরাধীরা রয়েছে। বর্তমানে লুট হওয়া অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার ও পলাতক বন্দিদের সক্রিয়তা দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে ওসব অস্ত্র উদ্ধার ও ফেরারিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।-খবর তোলপাড়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকালে মোট লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এবং গোলাবারুদের প্রায় ৩৯ শতাংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এসএমজি, সাবমেশিনগানসহ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। একই সঙ্গে ওই সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যেও ৭১৩ জন এখনো ফেরারি। তাদের অনেকেই গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করলেও কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দি ও লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।

সূত্র জানায়, থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্র লুট হয়। তার মধ্যে এখনো ১ হাজার ৩২৮টি উদ্ধার হয়নি। সেগুলোর মধ্যে ৩৩টি এসএমটির মতো সাবমেশিনগান রয়েছে। তাছাড়া রয়েছে এসএমজি ২২২টি, চায়না রাইফেল ১ হাজার ২টি, এসএমজি-টি ৩১টিসহ বিভিন্ন মডেলের অত্যাধুনিক অস্ত্র। একই সময়ে বিভিন্ন থানা থেকে ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গোলাবারুদ লুট হয়। তার মধ্যে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৪টি। বাকি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪টি গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার হয়নি। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বোরের গুলি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩১টি, টিয়ার গ্যাস সেল ১১ হাজার ৩৮১, টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড ২৯১, সাউন্ড গ্রেনেড ১ হাজার ১৬৮, কালার স্মোক গ্রেনেড ৪১, মাল্টিপল ব্যাংক স্টান গ্রেনেড ২২, ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড ২৮৪ ও হ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে (ক্যানিস্টার) ১১৬টি। তাছাড়া তখন দেশের ১৭টি কারাগারের বন্দিরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নরসিংদী কারাগার থেকে ৮২৬ জন, শেরপুর থেকে ৫০০ জন, সাতক্ষীরা থেকে ৬০০ জন, কুষ্টিয়া কারাগার থেকে ১০৫ জন ও কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ২০০ বন্দি পালিয়ে যায়। তার বাইরে জামালপুর কারাগারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেখান থেকে বন্দি পালিয়ে যাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব মিলিয়ে দেশের কারাগার থেকে ওই সময় ২ হাজার ২৩২ বন্দি পালিয়ে যায়। পরে তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫১৯ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হলেও ৭১৩ জন এখনো ফেরারি।

সূত্র আরো জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে ঘটছে সংঘর্ষের ঘটনা। ওসব ঘটনায় পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রগুলো ব্যবহারের এবং পলাতক বন্দিরা নানা ধরনের অপরাধ ঘটানোর শঙ্কা বাড়ছে। কারাগার থেকে পালানো বন্দিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা, অস্ত্র, মাদক, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া বন্দিরা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। জেল ভেঙে পালিয়ে তারা আরো বেশি অপরাধ করার সুযোগ পেয়েছে। দেশে চলমান খুন, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধগুলোর পেছনে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

এদিকে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং জেল থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। তা না হলে ওসব অস্ত্র ব্যবহার করে অপরাধীরা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আরো নাজুক করে তুলতে পারে। তাছাড়া পালিয়ে যাওয়া গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বন্দিরাও সমাজের জন্যে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ওসব অপরাধী কারো হয়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়াতে পারে। পরিস্থিতি উন্নয়নে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওসব বন্দিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যে দেশের ১৭টি কারাগার বিশৃঙ্খলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সময় পালিয়ে যাওয়া বন্দি ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। ওসব বন্দির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সার্বিক বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো যেসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি, সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে। আশা করা যায় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ওসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর