নতুন জুতা কেনার আনন্দ অনেক সময়ই ম্লান হয়ে যায় প্রথমবার পরেই। একটু হাঁটতেই গোড়ালি বা পায়ের আঙুলে জুতা ঘষে চামড়া উঠে যায়, তৈরি হয় ব্যথাযুক্ত ফোস্কা। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ব্যান্ডেজ বা ব্যান্ড-এইড ব্যবহার করেন। তবে এটি সাময়িকভাবে ক্ষত ঢেকে রাখলেও সমস্যার মূল কারণ দূর করে না।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন জুতার শক্ত অংশের সঙ্গে ত্বকের অতিরিক্ত ঘর্ষণের কারণেই ‘শু বাইট’ বা ফোস্কা তৈরি হয়। তাই জুতা পরার পর চিকিৎসা করার চেয়ে, আগে থেকেই কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করলে এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।-খবর তোলপাড়।
পেট্রোলিয়াম জেলি বা নারিকেল তেল ব্যবহার করুন
নতুন জুতা প্রথম কয়েকবার পরার আগে জুতার শক্ত হিল বা ভেতরের শক্ত অংশে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে সারারাত রেখে দিতে পারেন। এতে জুতোর উপাদান কিছুটা নরম হয়ে যায়। পাশাপাশি জুতা পরার আগে গোড়ালি বা আঙুলের পাশে সামান্য নারিকেল তেল লাগালে ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি হয়, যা ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে।
ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে নিন
অতিরিক্ত ঘাম জুতার ভেতরে ঘর্ষণ বাড়িয়ে ফোস্কার ঝুঁকি তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে ট্যালকম পাউডার কার্যকর হতে পারে। জুতা পরার আগে পা এবং জুতার ভেতরে অল্প পরিমাণ পাউডার ছড়িয়ে নিলে এটি ঘাম শুষে নেয় এবং পা শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে। ফলে ঘর্ষণ কমে যায়।
শুকনো সাবান ঘষে নিন
নতুন জুতার যে অংশ বেশি শক্ত বা ধারালো মনে হয়, সেখানে শুকনো সাবানের টুকরো হালকা করে ঘষে নিতে পারেন। সাবানের মসৃণ স্তর জুতার ভেতরের ঘর্ষণ কমিয়ে দেয়, ফলে হাঁটার সময় ত্বকে কম চাপ পড়ে এবং ফোস্কা হওয়ার আশঙ্কাও কমে।
আরও কিছু পরামর্শ
নতুন জুতা প্রথম দিন দীর্ঘ সময় না পরে অল্প সময় ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে মোজা পরে নতুন জুতা ব্যবহার করুন। জুতার মাপ ঠিক আছে কি না, কেনার সময় নিশ্চিত হয়ে নিন। অতিরিক্ত আঁটসাঁট বা ঢিলেঢালা জুতা ফোস্কার ঝুঁকি বাড়ায়।
সামান্য কিছু প্রস্তুতি নিলেই নতুন জুতার কারণে হওয়া অস্বস্তিকর ফোস্কা এড়ানো সম্ভব। ফলে ব্যথা বা অস্বস্তি ছাড়াই নতুন জুতা পরার আনন্দ উপভোগ করা যাবে।
বর্ষাকালে বৃষ্টির সঙ্গে নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে কাদা, জলাবদ্ধতা ও পিচ্ছিল রাস্তা। এ সময় ভুল জুতা ব্যবহারে যেমন প্রিয় জুতা দ্রুত নষ্ট হতে পারে, তেমনি পা পিছলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই বর্ষার জন্য জুতা কেনার আগে আরাম, নিরাপত্তা ও উপাদান সব দিকই বিবেচনায় রাখা জরুরি।
পানি সহনশীল উপাদানের জুতা বেছে নিন
বর্ষার জন্য রাবার বা প্লাস্টিকের তৈরি জুতা সবচেয়ে কার্যকর। এসব জুতা সহজে পানি শোষণ করে না, কাদা লাগলেও পরিষ্কার করা সহজ এবং ধোয়ার পর দ্রুত শুকিয়ে যায়।
চামড়ার জুতা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন
চামড়ার জুতা সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলতে হবে বর্ষাকালে। কারণ এতে জুতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পায়েও নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। বর্ষাকালের জন্য উপযুক্ত জুতা হলো পানিরোধী জুতা। বাজারে কিছু এমন ওয়াটারপ্রুফ জুতা পাওয়া যায় যেগুলো বিশেষভাবে বর্ষায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের জুতাগুলো পানিতে ভেজে চুপচুপে হয় না এবং সহজেই মুছে ফেলা যায়।
আরামদায়ক ও বাতাস চলাচল করতে পারে-এমন জুতা ব্যবহার
জুতা কেনার আগে অবশ্যই পরে দেখে নিন। এটি যেন পায়ে চাপ না দেয় বা ফোসকা না ফেলে। এমন নকশা বেছে নিন, যাতে ভেতরে পানি ঢুকলেও সহজে বের হয়ে যেতে পারে এবং বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকে। তবে সামনের অংশ পুরো খোলা জুতা এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এতে কাদা ও ময়লা সহজেই ভেতরে ঢুকে পায়ে সংক্রমণ বা ছত্রাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
দ্রুত শুকায় এমন স্নিকার্স ব্যবহার করতে পারেন
বর্তমানে অনেক স্নিকার্স রয়েছে, যেগুলো বর্ষার জন্য উপযোগী। ভালো গ্রিপযুক্ত সোল পিচ্ছিল রাস্তায় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে এমন স্নিকার্স বেছে নিন, যা ভিজলেও দ্রুত শুকিয়ে যায়।
ফ্ল্যাট সোলের জুতা বেশি নিরাপদ
জমে থাকা পানি বা কাদা পার হওয়ার সময় ফ্ল্যাট জুতা তুলনামূলক নিরাপদ। তবে সোল যেন খুব পাতলা না হয়। অতিরিক্ত পাতলা সোলের স্যান্ডেল, চটি বা ব্যালেরিনা জুতা পিচ্ছিল রাস্তায় ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চাইলে কম উচ্চতার ব্লক হিলও ব্যবহার করা যেতে পারে।
নিম্নমানের সিনথেটিক উপাদান এড়িয়ে চলুন
কিছু পলি-ফাইবার বা নিম্নমানের কৃত্রিম উপাদানের জুতা দীর্ঘ সময় ব্যবহারে ত্বকে অ্যালার্জি বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই মানসম্মত উপাদানের জুতা কেনাই ভালো।
বর্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ উঁচু হিল
বর্ষাকালে হাই হিল ব্যবহার না করাই নিরাপদ। বৃষ্টির কারণে রাস্তার গর্ত বা ভাঙা অংশ পানির নিচে ঢাকা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে হিল পরে হাঁটলে পিছলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়।
আরামকে দিন সর্বোচ্চ গুরুত্ব
সবশেষে, যে জুতাই বেছে নিন না কেন, সেটি যেন আরামদায়ক হয়। যাঁরা পুরোপুরি বন্ধ জুতা পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাঁরা পেছনে স্ট্র্যাপযুক্ত স্যান্ডেল বা জুতা ব্যবহার করতে পারেন। এতে হাঁটার সময় জুতা সহজে খুলে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে এবং পায়েও ভালোভাবে ধরে থাকে।
বর্ষায় সঠিক জুতা নির্বাচন শুধু আরামের জন্য নয়, পায়ের স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা এড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফ্যাশনের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ব্যবহারিক দিকেও সমান গুরুত্ব দিন।