পিআইডি, রংপুর :
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকে যদি একটি করে গাছ লাগাই, তাহলে দেশব্যাপী সবুজায়নের যে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, তা বাস্তবে রূপ নেবে।
শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকালে লালমনিরহাট কালেক্টরেট মাঠে ১০ দিনব্যাপী ‘লালমনিরহাট জেলা বৃক্ষমেলা, ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, একটি বৃক্ষ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না; এটি ব্যক্তি, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু মানুষের অসচেতনতা ও দায়িত্বহীন আচরণ উদ্বেগজনক। বিভিন্ন সড়কের আইল্যান্ড, উন্মুক্ত স্থান ও জনসমাগম এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে রোপণ করা গাছ অনেক সময় অযত্ন, অবহেলা কিংবা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে নষ্ট হয়ে যায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে পরিবেশের জন্য হুমকি উল্লেখ করে তিনি নব-রোপিত গাছের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, বেসরকারি নার্সারি মালিকদের উৎসাহিত করতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের উৎপাদিত গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নার্সারি মালিক সমিতির জন্য স্থান বরাদ্দেরও আশ্বাস দেন তিনি। সরকারের ঘোষিত ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, লালমনিরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবু ইমাম মো. রাশেদুন্নবী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শাইখুল আরেফিন, রংপুর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, নার্সারি মালিক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১০ দিনব্যাপী এ মেলায় ৩০টি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
পরে মন্ত্রী জেলার চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি লালমনিরহাট জেলা পরিষদের নতুন অডিটোরিয়ামে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর মূল্যায়ন সভায় অংশগ্রহণ করেন।